ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখার সাথে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সংযোগ রয়েছে। ছবি: প্রিয়.কম

দুঃস্বপ্ন দেখার পেছনে থাকতে পারে অদ্ভুত ৫টি কারণ

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:০৩
আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:০৩

(প্রিয়.কম) ভয়াবহ এক স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে ঝটকা দিয়ে উঠে গেলেন। শরীর ঘামে ভিজে চুপচুপে, ওদিকে গলা শুকিয়ে কাঠ। ছায়ার দিকে তাকাতেও ভয় করছে। এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে সবারই। হরর সিনেমা দেখার পরই যে শুধু এমন স্বপ্ন তাড়া করে, তা নয়। বরং আমাদের দৈনিক, সাধারণ কিছু কাজেই দুঃস্বপ্নের ঝুঁকি বাড়ে।

সাধারণ একটি স্বপ্নের সাথে দুঃস্বপ্নের পার্থক্য হলো, দুঃস্বপ্ন দেখে মানুষ ঝট করে ঘুম থেকে উঠে যায়, আর সময়টা হলো মাঝরাতের পর বা ভোররাতের দিকে।  প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মাঝে দুঃস্বপ্নের প্রবণতা বেশি থাকে। ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দুঃস্বপ্ন দেখেন। নারীরা বেশি দুঃস্বপ্ন দেখেন।

সাধারণত দুঃস্বপ্ন কদাচিৎ দেখে মানুষ। এতে ঘুমের তেমন একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু দুঃস্বপ্ন যদি ঘন ঘন দেখতে থাকেন ও ঘুম কম হতে থাকে, এমনকি কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্যা হতে থাকে তাহলে ডাক্তার দেখানো জরুরী। সাধারণত ১ শতাংশ মানুষের এ সমস্যাটি দেখা যায়।  ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখার সাথে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সংযোগ রয়েছে। ফলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।  এমনকি গ্লুকোজ ইনটলারেন্স ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কিন্তু কী করে কমাবেন দুঃস্বপ্ন? মূলত কী কারণে আপনার দুঃস্বপ্ন বেশি হচ্ছে, তা একটু খুঁটিয়ে দেখা দরকার।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজগুলো বাড়াতে পারে আপনার দুঃস্বপ্নের প্রবণতা-

১) আপনার থাকতে পারে মানসিক অসুস্থতা

নেতিবাচক চিন্তা, অমীমাংসিত সমস্যা থেকে দুঃস্বপ্নের সূচনা হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা কম্পিউটারের মতো কাজ করে। আমরা নেতিবাচক চিন্তা করলে স্বপ্নেও তেমনই নেতিবাচক চিন্তা আসতে পারে।  ফিনল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা যায়, যাদের তীব্র ডিপ্রেশন বা কিছুটা হলেও নেতিবাচক আচরণ আছে, তারা বেশি দুঃস্বপ্ন দেখেন।  দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস থেকেও দুঃস্বপ্ন দেখা দিতে পারে।  ব্যক্তিগত জীবনে শোক বা দুঃখের ঘটনা থেকে দুঃস্বপ্নের সূচনা হতে পারে।

২) কিছু বিশেষ ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য

২০০১ সালের এক গবেষণায় যেসব মানুষ মাসে অন্তত দুইবার দুঃস্বপ্ন দেখছিলেন তাদের ওপর পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, যারা বেশি স্পর্শকাতর প্রকৃতির মানুষ, তাদের নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা বেশি।  এছাড়া যারা স্পর্শকাতর, উদার ও সৃজনশীল, তারা বেশি লম্বা, নিখুঁত ও রঙিন স্বপ্ন দেখেন।

৩) আপনি আঘাত থেকে সেরে উঠছেন

মানসিক বা শারীরিক আঘাত, অর্থাৎ ট্রমার পর মানুষের দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা বেশি থাকে। তারা স্বপ্ন দেখার পর ভয় বা দুঃখ মনে নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন।  এটা মাঝে মাঝে হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ঘন ঘন হওয়াটা বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

৪) আপনি ঘুমানোর আগে কিছু খেয়েছেন

ঘুমাতে যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে সব খাবার খাওয়া শেষ করা উচিত। কারণ খাওয়ার পর দুই ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই যদি ঘুমিয়ে পড়েন, তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, দুঃস্বপ্নের কারণও হতে পারে। এই খাবার মেটাবলিজম বাড়ায়, শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় ও দুঃস্বপ্ন তৈরি করতে পারে।  আইসক্রিম বা অন্য দুগ্ধজাত খাবার খেলে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে মানুষ। এছাড়া মশলাদার খাবার খেলে দুঃস্বপ্ন বেশি হয়। অ্যালকোহল পান করলে ভাঙা ভাঙা দুঃস্বপ্ন তৈরি হয়, এমনকি হাত-পা ছোঁড়া বা ঘুমের মাঝে হাঁটার ঘটনাও দেখা দিতে পারে।

৫) আপনার ওষুধ দুঃস্বপ্ন তৈরি করছে

কিছু কিছু ওষুধের কারণে আপনি দুঃস্বপ্ন দেখতে পারেন। যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন ও স্টেরয়েড।  আলঝেইমার্স, পারকিনসন’স ও কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও ঘুম নষ্ট করে ও দুঃস্বপ্ন বাড়ায়।  দুঃস্বপ্ন ঘন ঘন দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

দুঃস্বপ্ন দূর করবেন কী করে?

মানসিক কোনো সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করুন, ঘুমের আগে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন ও ওষুধের বিষয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। এছাড়া মেডিটেশন, থেরাপি, ব্যায়াম ও জার্নালে স্বপ্ন লিখে রাখাটা ঘুমের উন্নতি করে।

দুঃস্বপ্ন আসলে ক্ষতিকর নয়। বরং দুঃস্বপ্নে যদি দেখেন একটি দানব আপনাকে তাড়া করছে, তাহলে দিনের বেলায় চিন্তা করুন আপনার কোন সমস্যাটি দানবের আকার ধারণ করছে। এরপর ওই দানবকে জীবন থেকে দূর করুন। তাহলেই কমে আসবে দুঃস্বপ্ন।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

প্রিয় লাইফ/ আর বি