কবরী সারোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

কবরীর বাসা থেকে ১৭ লাখ টাকার মালামাল ‘চুরি’

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৮
আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

(প্রিয়.কম) অভিনেত্রী, পরিচালক ও রাজনীতিক সারাহ বেগম কবরীর গুলশানের বাসা থেকে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও ৫ লাখ টাকা ‘চুরি’ হয়েছে। এ ঘটনায় কবরী গুলশান থানায় মামলা করেছেন।

২০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

ঘটনার এক মাস পর আজ বিষয়টি জানাজানি হয়। বিভিন্ন কারণে বিষয়টি এতদিন সংবাদমাধ্যমকে জানাননি বলে দাবি কবরীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কবরীর গাড়িচালক, গৃহপরিচারিকা ও গৃহপরিচারককে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। তবে ঘটনার এক মাস পার হয়ে গেলেও মূল সন্দেহভাজন রতন পালকে এখনো ধরা যায়নি।

এ বিষয়ে কবরী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমি থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ফিডব্যাক দিতে পারেনি। কেন এমনটা হচ্ছে, তা আমি বলতে পারব না।’

কবরী জানান, চুরির ঘটনাটি তিনি প্রথম টের পান ২০ আগস্ট। এরপর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘কাঙ্ক্ষিত’ সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী।

ষাট ও সত্তরের দশকের বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের এ নায়িকার দাবি, ‘যারা এ ঘটনায় জড়িত, তারা এর জন্য আমার আলমারির নকল চাবি বানিয়েছে। তারপর এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

কবরী ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে জানান। কিন্তু এরপর এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি আর কোনো অগ্রগতি জানাননি। 

‘যখন ঘটনা ঘটেছে, সে সময় আমি অসুস্থ ছিলাম। মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম, যার কারণে এ বিষয়গুলোতে খুব একটা খেয়াল করতে পারিনি। আমার ধারণা, বাসার গার্ড থেকে শুরু করে অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। না হয় এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব না’, বলেন ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া অভিনেত্রী।

চুরির ঘটনায় করা এজাহার থেকে জানা যায়, ‘কবরীর পূর্বপরিচিত রতন পাল ১৫ বছর পর গত এপ্রিল মাসে তার বাসায় আসেন। এরপর বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারপর কবরী তাকে তার বাসায় আশ্রয় দেন। রতন কবরীর গুলশানের বাসায় থাকতে শুরু করেন। ওই সময়টাতে কবরী দেশের বাইরে যান। আর বাসা দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান তাকে। এরপর ফিরে আসার পর তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে ২০ আগস্ট কবরী তার বাসার জিনিসপত্র সব ঠিকঠাক আছে কি না, দেখেন। টের পেয়ে রতন পাল কাউকে কিছু না বলে কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান।’

‘বাসার সবকিছু খোঁজার পর একটা সময় কবরী দেখলেন, তার আলমারি থেকে সাতটি সোনার চুড়ি, দুটি সীতাহার, চারটি স্বর্ণের আংটি, যার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ টাকা এবং ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১৭ লাখ টাকা ও বেশ কিছু মালামাল চুরি হয়ে গেছে।’

কথা প্রসঙ্গে প্রিয়.কমকে কবরী জানান, ঘটনার পর তার সঙ্গে একাধিকবার রতন পালের মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তিনি তাকে তার বাসায় আসার কথাও বলেন। কিন্তু রতন আসেননি। বর্তমানে রতনের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় তারা বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক, গাড়ির চালক ও বুয়াকে গ্রেফতার করেছেন। আর চুরির সঙ্গে তিনজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছেন। আর ঘটনার পর থেকেই মূল আসামির ফোন বন্ধ; তার কোনো হদিস পাচ্ছেন না।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করেন কবরী৷ এরপর অভিনয় করেছেন ‘হীরামন’, ‘ময়নামতি’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’, ‘বিনিময়’, ‘আগন্তুক’, জহির রায়হানের তৈরি উর্দু ছবি ‘বাহানা’ এবং ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সহ অসংখ্য ছবিতে।

প্রিয় বিনোদন/আজহার