মুজিববাদ, মার্ক্সবাদ ও মওদুদীবাদ
আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০১৩, ১২:২৯
আলোর কথা বলে এবং দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে চালানো পত্রিকায় এক লেখক " না পাকিস্তান , না বাংলাদেশ " শিরোনামে মুজিবনগর সরকারের জামায়াত নিষিদ্ধ ও জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর দর্শন নিয়ে বাকশালীয় আলোচনা করেছেন । তার লেখার শিরোনাম " না আওয়ামীলীগ না বাকশাল " হলে নিজের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের চরিত্র আরো সহজে ফুটে উঠতো । তিনি ছিদ্রান্বেষন করে বের করেছেন , মওদুদী বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ মানেন না। এর অর্থ হলো, মুখে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলে প্রকারান্তরে মওদুদীর সংজ্ঞায়িত রাষ্ট্রব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া । তাকে যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয় মাওলানা মওদুদী কি বাংলাদেশের নাগরিক কিংবা তিনি কি বাংলাদেশের সংবিধান মানতে বাধ্য ? ন্যুনতম ইসলামী জ্ঞান ও আইন না জেনে অন্যের সমালোচনা মূর্খতা । আল্লাহর সার্বমৌমত্ব স্বীকার করে নিয়েই ইসলামী সংবিধান ও ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব । মাওলানা মওদুদী মনগড়া ও চাপিয়ে দেয়া নয় বরং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্হার স্বরুপ সংগায়িত করেছেন । তিনি লিখেছেন - "মওদুদীর ভাষ্য অনুযায়ী পার্লামেন্টের সব সদস্য হবেন মুসলিম। সেখানে অমুসলিমদের জায়গা নেই"। তার হয়তো জানা আছে কোন তত্ব ও আদর্শে ভারত ভাগ হয়েছে । তিনি যদি দ্বিজাতি তত্বের ভিত্বিতে পাকিস্তানের ও ভারতের অভ্যুদয় স্বীকার করেন , তবে অমুসলিমদের নিয়ে মায়া কান্নার যুক্তি থাকে না । দলীয় মানুষিকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ দেখিয়ে তিনি লিখেছেন - " ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের মাত্র পাঁচ দিন আগে জামায়াতে ইসলামীকে মুজিবনগর সরকার নির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছিল "। সামান্যতম সংবিধান ও আইনগত জ্ঞান থাকলে কেউ মুজিব নগর সরকারের ক্ষমতার বৈধতা ও ভিত্তি নিয়ে এমন হাস্যকর মন্তব্য করতে পারে না । তার নসীহত - নির্বাচন কমিশনও মুজিবনগর সরকারের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে পারে । মুখে গনতন্ত্র ও সংবিধানের কথা বলে কাজে মুজিবনগরের অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক সরকারে কর্মকান্ডের বৈধতার গুনগান করা লেজুড়বৃত্তি মানুষিকতা । সংগত কারণেই জামাত ঠুটো জগন্নাথ মুজিব নগর সরকারের আদেশ চ্যালেন্জ করেনি । যেটা আওয়ামীলীগ ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের অবৈধ সরকারের বৈধতা দিয়ে ও হোতাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে রাজনৈতিক শিষ্ঠাচর বিরোধী ও নগ্ন ক্ষমতা লিপ্সার পরিচয় দিয়েছে । তার কথামতো -১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ কার্যকর হলে ধর্মের নামে সব সংগঠন আপনা আপনি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তাহলে সংবিধানে সর্বশেষ ছুড়ি চালিয়ে ধর্মকে স্বীকার করে নিয়ে যে সংশোধনী আনা হয়েছে , তাতে অধর্মের নামে সব সংগঠন স্বয়ংক্রিয় ভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার কথা । তিনি অভিযোগ করেছেন জনাব মাওলানা মওদুদী মুখে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেছেন কিন্তু পরক্ষনেই তথ্য দিয়েছেন - "আইনসভার সদস্য হতে মওদুদী যোগ্যতা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, মুসলিম আইনসভায় কেবল মুসলিমরাই ভোট দিতে পারবেন। একজন সংসদ সদস্য হতে মওদুদী চারটি যোগ্যতা ঠিক করে দিয়েছেন। মুসলিম হবেন, পুরুষ হবেন. মানসিকভাবে সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক হবেন। এ ছাড়া ইসলামি আইনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই কেবল সাংসদ হবেন। রাষ্ট্রপ্রধানও হবেন মুসলিম এবং তাঁকেও পুরুষ হতে হবে "। একই সংগে আল্লামা শফীর সঙ্গে মাওলানা মওদুদীর মিল খুজে পেয়েছেন লেখক । তাহলে তো তার বুঝার কথা ইসলাম কি বলে এবং জনাব মওদুদী মনগড়া তথ্য দেননি । সবশেষে তিনি আক্ষেপ করছেন - ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ এবং অধুনা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ নাম ধারণ করলেও আমরা কখনো এটা জানতে পারি না যে তারা মওদুদীবাদে কোনো সংশোধনী এনেছে। মওদুদী তাদের আধ্যাত্মিক নেতা। তাঁর মন্ত্রই তাদের মন্ত্র। বাদবাকি কৌশলগত হিসেবে অন্তত আমরা সন্দেহ করতে পারি। যারা সন্দেহ ও অজ্ঞতাবশতঃ অন্যের সমালোচনায় মুখর হয় , তাদের উদ্দেশ্য তোষণ ও চাটুকারিতা । জামায়াতে ইসলামীর মূল নীতি ‘আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন’। তারা কখনো বলেনি তাদের উদ্দেশ্য কথিত মওদুদীবাদ । ইসলামিক আন্দোলন যারা করে তারা এক কেন্দ্রিক হয় না, এমনকি তাদের আধ্যাত্বিক নেতাও অসংখ্য । যারা শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাকশাল কায়েম না করে সংবিধানে ইসলাম রাখে কিংবা মার্ক্স-লেনিনকে মহান নেতা মেনে পুঁজিবাদের পদ লেহনে ব্যস্ত থাকে , তারাই রাজনীতির দুর্বৃত্ত । এই বর্ণচোরাদের বিরুদ্ধে কারো কোন সন্দেহ হয় না ও আদর্শচ্যুতি চোখে পরে না । যারা মুজিব মন্ত্র কিংবা মার্ক্স-মাও মন্ত্র বাদ দিয়ে সাপের মন্ত্র ও জ্বীনের মন্ত্র দিয়ে দেশের মানুষকে ধোকা দিচ্ছে , তারাই দেশপ্রেমী ও গনতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক!
- ট্যাগ:
- রাজনীতি