ছবি সংগৃহীত
বাংলার সংস্কৃতি : গম্ভীরা গান (ভিডিও)
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৪, ০৮:৩৬
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৪, ০৮:৩৬
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৪, ০৮:৩৬
(প্রিয়.কম) : গম্ভীরা গান বাংলাদেশের এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত। মূলত ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয়, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের অপর এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান। গম্ভীরা উৎসবের সঙ্গে এই সঙ্গীতের ব্যবহারের পিছনে জাতিগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।
উৎপত্তি :
গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হিন্দুসমাজে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে। ঐ সময় থেকে এ গানের পৃষ্ঠপোষক হয় মুসলিম সমাজ। তখন স্বাভাবিকভাবে গানের আঙ্গিক ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন সূচিত হয়। ক্রমে রাজশাহী, নবাবগঞ্জ, নওগাঁ প্রভৃতি স্থানে এ গান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে গম্ভীরা গানের চর্চা রয়েছে।
মতবাদ :
গম্ভীরা শব্দ নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ আছে। মধ্যযুগে গম্ভীরা বলতে দেবগৃহ বা মন্দির বুঝানো হতো। কিন্তু বাস্তবে গম্ভীরা নামক কোনো মন্দিরকে কেন্দ্র করে কোনো পূজা ও উৎসবের আয়োজন করা হতো না। মূলত সূর্যপূজা পরবর্তী পর্বে শৈবধর্ম প্রভাবে শিব পূজাকে অনেক সময় গম্ভীরা বুঝানো হতো। সূর্যপূজায় সূর্য ছিলেন ধর্ম ঠাকুর। এই পূজায় গামার কাঠের পিঁড়ি ব্যবহৃত হতো। কোনো কোনো মতে, গামার শব্দটি থেকে গম্ভীরা শব্দ এসেছে। উত্তরবঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়কপূজা, শিবের নৃত্য ইত্যাদির প্রচলন ছিল। এই কারণে উত্তরবঙ্গের কোথাও কোথাও শিবকে গম্ভীরা বলা হতো। ধর্মমঙ্গলের কাহিনী থেকে জানা যায়, রানী রঞ্জাবতী ধর্মকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে গাজন উৎসবের প্রচলন করেন। বাঙালিরা ছাড়াও কোচ, রাজবংশী, পলিয়া এবং মাহালী , হাঁড়ি, বাগদী, কেওট, নুনীয়া, চামার, পোদ নাগর, ধানুক চাঁই, তুড়ী ইত্যাদি সম্প্রদায়ও এই পূজা করতো। এই বিচারে বলা যায়, গম্ভীরা উৎসব প্রায় হাজার বছরের পুরোনো। চীনা পরিব্রাজক হিউ এন সাংয়ের বিবরণীতেও এই উৎসবের তথ্য মিলেছে । আর এই গম্ভীরা উৎসব থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল গম্ভীরা নৃত্য ও গম্ভীরা গান।প্রকারভেদ :
আদিতে গম্ভীরা ছিল দুপ্রকার, আদ্যের গম্ভীরা ও পালা-গম্ভীরা। দেবদেবীকে সম্বোধন করে মানুষের সুখ-দুঃখ আদ্যের গম্ভীরার মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। কখনও কখনও সারা বছরের প্রধান প্রধান ঘটনা এ গানের মাধ্যমে আলোচিত হতো। পালা-গম্ভীরায় অভিনয়ের মাধ্যমে এক একটা সমস্যা তুলে ধরা হতো। চৈত্র-সংক্রান্তিতে বছরের সালতামামি উপলক্ষে পালা-গম্ভীরা পরিবেশন করা হতো।পরিবেশনা রীতি :
গম্ভীরা গানে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয় এবং তার সমাধানও বলে দেওয়া হয়। পূর্বে গম্ভীরা গানের আসরে শিবের অস্তিত্ব কল্পনা করা হতো। বর্তমানে শিবের পরিবর্তে ‘নানা-নাতি’র ভৃমিকায় দুজন অভিনয় করে। তাদের সংলাপ ও গানের মধ্য দিয়ে দ্বৈতভাবে গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। আঞ্চলিক ভাষায় রচিত সংলাপ ও গানের মাধ্যমে কোনও একটা বিষয় তুলে ধরা হয়। গানের একটি ধুয়া থাকে, সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে গানগুলি ধুয়ার সুরে গীত হয়। এভাবে নানা-নাতির নাচ, গান, কৌতুক, অভিনয়, ব্যঙ্গ প্রভৃতির মাধ্যমে গম্ভীরা গানে সমাজের দোষ-ক্রটি তুলে ধরা হয়। এ সময় তাদের বাকচাতুরী, উপস্থিত বুদ্ধি এবং অঙ্গভঙ্গি সকলকে মুদ্ধ করে। পোশাক : নানার পোশাক হলো লুঙ্গি; এছাড়া তার মুখে থাকে পাকাদাঁড়ি, মাথায় মাথাল, হাতে লাঠি, আর নাতির পোশাক ছেঁড়া গেঞ্জি, কোমরে গামছা ইত্যাদি। এক সময় গম্ভীরা গান একতাল, ত্রিতাল, দাদরা, খেমটা, কাহারবা প্রভৃতি সুরে গাওয়া হতো। বর্তমানে সুরের পরিবর্তন ঘটেছে এবং তাতে হিন্দি ও বাংলা ছায়াছবির গানের সুর প্রাধান্য পাচ্ছে। এছাড়া লোকনাট্যের বহু বিষয়, চরিত্র ও সংলাপও গম্ভীরা গানে সংযুক্ত হয়েছে। নবাবগঞ্জের কুতুবুল আলম, রকিবউদ্দীন, বীরেন ঘোষ, মাহবুবুল আলম প্রমুখ গম্ভীরা গানের বিশিষ্ট শিল্পী। তাঁরা নতুন নতুন সুর সৃষ্টির মাধ্যমে গম্ভীরা গানকে সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। [video:http://www.youtube.com/watch?v=LKRv9BqhWYU]সামাজিক ঘটনা :
গম্ভীরা উৎসবের জন্য নিবেদিত গান ছিল গম্ভীরা গান। এই গানে শিব-পার্বতীর লীলা, দুর্গার স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়ি আসার উপাখ্যান গম্ভীরা গানের বিষয় ছিল। কালক্রমে দেবতার অংশ বাদ দিয়ে শুধু সামাজিক সমস্যা এই গানের বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আজকালকার গম্ভীরা গানে শিবের কোনো উল্লেখই থাকে না। বর্তমানের গম্ভীরা গানে নানা-নাতির প্রশ্নোত্তরমূলক কথোপকথনের ভিতর দিয়ে সমাজের নানাবিধ সমস্যা এবং তার সমধানের কথা হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনায় পরিবেশিত হয়। মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর লোকসমাজের রুচির তাগিদে সামাজিক লোকনাট্যের রূপ নিয়েছে গম্ভীরা গান।
৪ ঘণ্টা, ৪৬ মিনিট আগে
৪ ঘণ্টা, ৪৭ মিনিট আগে
প্রথম আলো
| কুমিল্লা সদর
৪ ঘণ্টা, ৪৭ মিনিট আগে
৪ ঘণ্টা, ৪৯ মিনিট আগে
৬ ঘণ্টা, ৮ মিনিট আগে
৭ ঘণ্টা, ৪ মিনিট আগে
৭ ঘণ্টা, ৬ মিনিট আগে
২৩ ঘণ্টা, ৪১ মিনিট আগে