ছবি সংগৃহীত

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্লীজ এভাবে বলবেন না

Showquat Ali Benu
লেখক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ০৭:১৪
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ০৭:১৪

শেখ হাসিনা পেত্নী আর নির্বাচন কমিশনাররা গৃহপালিত পশু! দেশের সরকার প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কে এরূপ বিশেষণে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শ্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়! জাতীয়তাবাদ প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের হল রুমে 'জাতীয় সংকট নিরসনে তত্বাবধায়ক সরকার অনিবার্য' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিশ্লেষণ দেন।তিনি ওই সভায় পেত্নী তাড়ানোর অভয় দিয়ে আহবান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ছোট খাটো পেত্নী নয়, তাকে তাড়াতে হলে যার যা কিছু আছে সব কিছু নিয়ে আন্দোলনের জন্যে রাজপথে নামতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অশ্লীল ও আক্রমনাত্মক ভাষায় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করা আমাদের দেশের রাজনৈতিকদের একটি মজ্জাগত স্বভাব হলেও একজন সরকার প্রধান সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কুরুচিপূর্ণ শব্দ প্রয়োগে এবার অনেকের মতো আমারও ভ্রু কুচকে উঠলো।অবশ্য ইতিপূর্বেও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে কালনাগিনী, ডাইনি, ঝিঁ ঝিঁ পোকা, সাপ, কিম্ভুতকিমাকার অদ্ভূত পেঁচা ও ছাগলের ৩ নম্বর বাচ্চা ইত্যাকার শব্দ প্রয়োগ করে বস্তাপচা রাজনৈতিক সেলিব্রেটিরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি।হয়তো অনেকেই বলবেন তাহলে গয়েশ্বর বাবু আর তেমন কী করেছে? কৌতুহলের শুরুটা এখানেই।এবার, বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের আলোচনা সভায় জাতীয় সংকট নিরসনের উপর বয়ান রাখতে গিয়ে পেত্নী তাড়ানোর সম্পর্ক খুঁজে পেলেন কোথায়? কেনই বা পেত্নী তাড়ানোর ডাক দিয়ে আন্দোলনের জন্যে রাজপথে নামতে বল্লেন? নির্বাচনকালীন সরকার পদ্বতির সাথে পেত্নী তাড়ানো আহবানের সম্পর্কই বা কি? এই বিষয়ে আমার একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ রয়েছে। চলুন বিশ্লেষণের পূর্বে কিঞ্চিত জেনে নেয়া যাক পেত্নী-ই বা কী? লোকগাঁথা, লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী অপঘাত, আত্মহত্যা প্রভৃতি কারণে মৃত্যুর পর মানুষের অতৃপ্ত আত্মা ভূত-পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে থাকে।পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে।এর পুরুষবাচক শব্দ প্রেত।বাংলায় ভূতকে প্রেতাত্মা (সংস্কৃত) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী বলা হয়ে থাকে। অর্থাত ভূত হলো অশরীরি পুরুষ আত্মা, আর পেত্নী অশরীরি মেয়ে আত্মা। জানি, রাজনীতিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতার সুনাম আছে তার দলে। এও জানি সময়ের প্রয়োজনে সাহসী ও উচিত কথা বলার খ্যাতিও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।কিন্তু এই সাহসী রাজনীতিবিদ পেত্নীকে এত ভয় পেলেন কেন? ডিজিটাল এই যুগে আবার ভূত পেত্নীর কোনো অস্তিত্ব আছে নাকি? আসলে তিনি পেত্নীকে ভয় পাননি। কথায় বলেনা 'ঘাড়ে ভূত চেপে' বসেছে।আসলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ঘাড়ে একটা ভূত চেপেছে।আর এই ভুতের ভয়টা গয়েশ্বর বাবুদের দেখিয়েছেন আমাদের প্রবীন সাংবাদিক এবিএম মুসা। ডিজিটাল এই যুগে পেত্নীর অস্তিত্ব না থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এবিএম মুসা কোনো এক অশরীরি আত্মার উপস্থিতি টের পেয়ে গেছেন আগেই।আর এতেই গয়েশ্বর বাবুরা চিন্তিত।এবং হোচট খেলেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো শংকা নেই উল্লেখ করে বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেছেন, 'বিরোধী দলের এত চেচামেচি করে কী লাভ? বরং আমি বলব যাও, নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। আগামী নির্বাচন হবে 'রিমোট কন্ট্রোলের' মাধ্যমে।ভোট কেন্দ্র প্রতিরোধ কমিটি করে লাভ কী?' আর যায় কোথায়। ডিজিটাল যুগে ভূত পেত্নীর কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও গয়েশ্বর বাবুরা পেত্নী তাড়াতে শুরু করলেন! 'কাক কাকের গোশত খায় না'- কথাটা বেশ প্রচলিত।খ্যাতিমান লেখক জাফর ইকবাল একবার তার একটি লেখায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন এবারে মনে হয় একটু খেতেই হবে। এর মর্মকথা হলো- তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষক হয়ে তিনি অন্য কোনো শিক্ষক কিংবা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্বে কোনো ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করেননা। কিন্তু জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকদের বিরুদ্বে কলম ধরতে হয়েছিল বলেই তিনি বিনয়ের সাথে লেখার পটভূমিতে এমনটি উল্লেখ করে লেখাটি শুরু করেছিলেন। কিন্তু আমাদের রাজনীতির ময়দানে 'কাক কাকের মাংশ খায় না'-এমন কথা বলার সাহস বোধ হয় আমাদের রাজনীতিবিদরা হারিয়ে ফেলেছেন।কারণ রাজনীতির ময়দানে কাকরুপি রাজনীতিকের সংখ্যা এত বেশি যে স্বগোত্রীয় মাংশ না খেলে যেন তাদের পেটের ভাত হজম হয়না।নাকি না খেয়ে তাদের উপায় থাকেনা। রাজনীতির ময়দানে কাকেরা প্রতিদিন কাকের মাংশ খাচ্ছে।খেয়ে হজমও করছে-পুনরায় খাওয়ার জন্যে।কিন্তু মুশকিল টা হলো আমাদের জনগনের।রাজনৈতিক কাকদের কর্কশ শব্দ ভালো না লাগলেও তাদের ক্যা ক্যা প্যাঁচাল আমাদেরকে হজম করতে হয় প্রতিনিয়ত। পক্ষীকুলের মধ্যে কাক অন্যতম নীচু প্রকৃতির হলেও যেকোনো বিপদে এদের স্বজাত্যবোধ অসাধারণ।ব্যক্তি ও সামষ্টিক আপদ-বিপদে সব কাকের এক রা।একটি কাক বিপদে পড়লে নিমিষেই হাজির হয়ে যায় অন্য কাকেরা।কাকের মতো নীচু প্রকৃতির প্রাণীরাও নিজের মৃত স্বগোত্রীয় মাংস না খেলেও আমাদের সমাজে রাষ্ট্র ও সরকার নিন্ত্রনকারী কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক কাক-পক্ষী একে অপরের বিরুদ্ধে সদা বিষেদগারে মত্ত।আর তাইতো তারা খুঁজে বেড়ায় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করার মতো কুরুচিপূর্ণ কিছু শব্দ।যার সর্বশেষ সংযোজন আরএক রুচিহীন সেলিব্রেটি বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পেত্নী তাড়ানোর আহবান। শ্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবধান! কোনো অশরীরী আত্না সত্যি সত্যি আপনাকে খামচে ধরে কীনা-সেই শঙ্কা কিন্তু রয়েই গেল! লেখক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী