মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় আটকে গেলে কী করবেন?
ঈদুল আজহার উৎসব মানেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে জমিয়ে মাংসের নানা পদ উপভোগ করা। তবে আনন্দঘন এ সময়ে অসতর্কতার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
এর মধ্যে মাংস খেতে গিয়ে গলায় হাড় আটকে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। প্রতি বছরই এ ধরনের ঘটনায় অনেক মানুষকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
সাধারণত দ্রুত খাওয়া, খাবার ঠিকভাবে চিবিয়ে না গেলা কিংবা খাওয়ার সময় গল্পে মেতে ওঠার কারণে এমন বিপত্তি ঘটে। বিশেষ করে ছোট বা সূচালো হাড় গলায় আটকে গেলে তীব্র অস্বস্তি, ব্যথা এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে গিয়ে ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই ঈদের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়, সে জন্য গলায় হাড় আটকে গেলে কীভাবে প্রাথমিকভাবে সামলাতে হবে এবং কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে— এসব বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন থাকা প্রয়োজন।
কেন ঘটে এ বিপত্তি?
খাবার গিলে ফেলার সময় আমাদের মুখ, জিব এবং খাদ্যনালির পেশিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে খাবারকে পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়। কিন্তু মাংসের হাড় যদি খুব ছোট বা ধারালো হয় এবং তা ঠিকমতো চিবানো না হয়, তবে পেশির এ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে এবং হাড়টি গলার কোনো অংশে আটকে যায়। সাধারণত তাড়াহুড়া করে খেলে, খেতে খেতে কথা বললে, বয়স্ক বা শিশুদের ক্ষেত্রে এবং দাঁতের সমস্যা থাকলে এই ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়া খুব শুকনা বা শক্ত মাংস খেলেও এমন সমস্যা হতে পারে।
হঠাৎ গলায় হাড় বিঁধলে ঘাবড়ে না গিয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:
হালকা কাশি দিন
গলায় কিছু আটকেছে মনে হলে প্রথমেই হালকা করে কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় কাশির ধাক্কায় ছোট হাড় সরে আসে। তবে খুব জোরে বা মারাত্মভাবে কাশির চেষ্টা করবেন না।
ধীরে ধীরে পানি পান
কয়েক ঢোক পানি খুব ধীরে ধীরে পান করুন, এতে হাড়টি নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে গিলতে খুব বেশি কষ্ট হলে জোর করে পানি খাওয়া ঠিক হবে না।
নরম খাবার খাওয়া
সামান্য পরিমাণ নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি খেয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এটি করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ধারালো হাড় হলে তা উল্টো আরও গভীরে গেঁথে যেতে পারে।
অপেক্ষা করুন
অনেক সময় হাড়ের আঁচড় লেগে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হয়, যার ফলে মনে হয় কিছু আটকে আছে। যদি অস্বস্তি খুব বেশি না হয়, তবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে এই অনুভূতি চলে যেতে পারে।