নাক ডাকা কি শুধু বিরক্তির শব্দ?
রাতে স্বামী বা স্ত্রী প্রচণ্ড নাক ডাকেন। মাঝেমধ্যে হঠাৎ শব্দ থেমে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর দমবন্ধ মানুষের মতো হাঁ করে শ্বাস নেন, আবার নাক ডাকা শুরু হয়। সকালে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বেশ ভালোই ঘুমিয়েছি!’
আসলে, এই নীরব বিরতিগুলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি এমন একটি সমস্যা, যেখানে ঘুমের মধ্যে গলার পেছনের অংশ বারবার বন্ধ হয়ে শ্বাস কমে যায় বা সাময়িকভাবে থেমে যায়। রোগী সাধারণত নিজে ঘটনাটি বুঝতে পারেন না; প্রথম সন্দেহ করেন তাঁর পাশে ঘুমানো মানুষটি।
ঘুমের মধ্যে কী ঘটে?
জেগে থাকার সময় গলার পেশিগুলো শ্বাসনালি খোলা রাখে। ঘুমের মধ্যে এসব পেশি কিছুটা শিথিল হয়। কারও জিহ্বা, নরম তালু বা গলার টিস্যু পেছনে সরে শ্বাসনালি সংকুচিত বা বন্ধ করে দিতে পারে।
তখন শরীরে অক্সিজেন কমে যায়। মস্তিষ্ক বিপদের সংকেত পেয়ে রোগীকে কয়েক মুহূর্তের জন্য আংশিক জাগিয়ে তোলে। শ্বাস আবার শুরু হয়; কিন্তু কিছুক্ষণ পর একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে। গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে এক রাতে শত শতবার ঘুম ভেঙে গেলেও সকালে তাঁর কিছুই মনে থাকে না।
ফলে বিছানায় সাত-আট ঘণ্টা থাকার পরও শরীর গভীর ও স্বস্তিদায়ক ঘুম পায় না।
সব নাক ডাকাই কি স্লিপ অ্যাপনিয়া?
না। নাক ডাকার সঙ্গে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সম্পর্ক থাকলেও সব নাক ডাকা রোগ নয়। আবার স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলেও সবাই খুব জোরে নাক ডাকেন না।
- যেসব লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে সন্দেহ বাড়ে—
- জোরে ও নিয়মিত নাক ডাকা।
- ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাওয়া।
- দম আটকে বা হাঁপাতে হাঁপাতে জেগে ওঠা।
- সকালে মুখ শুকিয়ে থাকা বা মাথাব্যথা।
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দিনের বেলা ঘুম পাওয়া।
- মনোযোগ, স্মৃতি বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া।
- মেজাজ খিটখিটে থাকা।
- রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা।
- যৌন আগ্রহ বা সক্ষমতা কমে যাওয়া।
নারীদের ক্ষেত্রে সব সময় জোরে নাক ডাকা প্রধান অভিযোগ নাও হতে পারে। তাঁরা অনিদ্রা, ক্লান্তি, সকালে মাথাব্যথা বা মন-মেজাজের সমস্যার কথা বেশি বলতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চঞ্চলতা, স্কুলে মনোযোগের সমস্যা, বিছানায় প্রস্রাব এবং বড় টনসিল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট (এনএইচএলবিআই) ৯ জানুয়ারি ২০২৫-এ হালনাগাদ তথ্যে এসব ভিন্ন উপসর্গের কথা উল্লেখ করেছে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
স্থূলতা একটি বড় ঝুঁকি, কিন্তু রোগটি শুধু অতিরিক্ত ওজনের মানুষের হয় না। বয়স বৃদ্ধি, পুরুষ লিঙ্গ, পরিবারের ইতিহাস, মোটা ঘাড়, বড় জিহ্বা বা টনসিল এবং চোয়ালের গঠনও ভূমিকা রাখতে পারে।