বিলিয়ন ডলারে বন্দি ‘সোনার’ চামড়া: নকশার ত্রুটি ও নীতিহীনতা কি দায়ী?
প্রতি বছর কোরবানির ঈদে একই চিত্র ফুটে ওঠে— কাঁচাচামড়ার বাজারে সেই পুরোনো হাহাকার। উপযুক্ত মূল্য ও সক্ষম ক্রেতার অভাবে জেলায় জেলায় এবং রাজধানীর সড়কের পাশে পচে নষ্ট হয় স্তূপ করে রাখা হাজার হাজার পিস কাঁচাচামড়া। কোথাও লোকসান গুনে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে, কোথাও আবার রাগে-ক্ষোভে চামড়া রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে কিংবা গর্ত খুঁড়ে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পিচঢালা পথ ও আশপাশের পরিবেশেও চামড়া ও বিষাক্ত বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কালচে দাগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।
যে চামড়াকে একসময় বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় সোনালি আঁশ’ বা ‘সোনার চামড়া’ বলা হতো, তা আজ বছরের পর বছর ধরে চলা নীতিগত পক্ষাঘাত ও স্থায়ী অব্যবস্থাপনার কারণে ডাস্টবিনের আবর্জনার মতো অবহেলিত। বিপুল কাঁচামাল, দীর্ঘদিনের ট্যানিং অভিজ্ঞতা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী শ্রমশক্তির কারণে চামড়া খাতকে পোশাকশিল্পের পর রপ্তানি বহুমুখীকরণের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অথচ বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা যখন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, বাংলাদেশ তখন মূলত কম মূল্যসংযোজনের কাঁচামাল ও আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির বৃত্তেই আটকে আছে।