টেকনাফে পানির কষ্ট, খাল-ঝিরির প্রবাহে জীবন চলে ২৫ হাজার রোহিঙ্গার
কক্সবাজারের টেকনাফে সৈয়দ আমিনের ঠিকানা ২২ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প; ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর পাহাড়ঘেঁষে গড়ে ওঠা ওই ক্যাম্পের এক খুপড়ি ঘরে সাতজনের পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি।
জরুরি মানবিক সহায়তায় কোনোমতে সংসার চলে গেলেও পানির চিন্তা তাকে বেশি ভাবায়। বৃষ্টির মৌসুমে পরিবারের প্রত্যেকের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পানি পান তিনি।
রান্না, গোসল আর শৌচকর্ম–সব কিছু সারতে হয় ওই পানিতে। ফলে পানি খরচ করতে হয় মেপে মেপে।
শুকনো মৌসুমে ওই পরিমাণ পানিও তারা পান না। সরবরাহ নেমে আসে ৫ থেকে ১৫ লিটারে।
“তখন রান্না হলে গোসল হয় না, গোসল হলে রান্না হয় না। বেশিরভাগ সময় গোসলই করতে পারি না আমরা,” বলছিলেন সৈয়দ আমিন।
২২ নম্বর ক্যাম্পে থাকা প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গার জন্য মেপে মেপে সরবরাহ করা ওই পানির পুরোটাই আসে পাশ্ববর্তী একটা খাল থেকে। শুকনো মৌসুমে সেই খালেও পানি আনতে হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ি ছড়া থেকে।
একটিমাত্র সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ঘুরে সেই পানি যায় রোহিঙ্গাদের ঘরে, যা দিয়ে কেবল অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন মেটাতে পারেন তারা।