আবার খুলতে হবে দখিনা দুয়ার
জাহাজের পর জাহাজ আসছে। পণ্য ভর্তি করছে, চলে যাচ্ছে। সাধারণত জাহাজগুলো নিয়ে আসে রুপা। এই রুপা দিয়ে তৈরি হয় রৌপ্যমুদ্রা। এই মুদ্রা বিনিয়োগ হচ্ছে কৃষি খামারে, গড়ে উঠছে নতুন নতুন জনপদ। রিচার্ড এম. ইটন তার ‘দি রাইজ অব ইসলাম অ্যান্ড বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার’ গ্রন্থে এমনভাবেই মধ্যকালীন বাংলার অবস্থা বর্ণনা করেছিলেন। রিচার্ড এম. ইটনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত বা দ্বিমত থাকতেই পারে। তবে মধ্যকালীন বাংলার যে সমৃদ্ধি ছিল, তাতে বঙ্গোপসাগরের বিপুল ভূমিকা ছিল। সওদাগরদের সাগরপথের বাণিজ্য যেদিন থেকে হাতছাড়া হয়ে গেল, বাংলার দুর্দশা তখন থেকেই শুরু। গোলাভরা ধান, গোয়ালভরা গরুর দেশটি নামতে নামতে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হলো।
একইভাবে এই যে পাশ্চাত্য আজ আর্থিকভাবে এত সমৃদ্ধ, তার নেপথ্যে সাগরে তাদের আধিপত্য। আগের সব সাম্রাজ্য ছিল স্থলভিত্তিক। ষোড়শ শতক থেকে ইউরোপিয়ানরা সাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা শুরু করলে পরিস্থিতি পালটে যেতে থাকে। বর্তমানে সাগরের নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু রাজনৈতিক আধিপত্যই নয়, একইসঙ্গে বাণিজ্য, মৎস্য, খণিজসম্পদেরও। এর রেশ ধরে সহজভাবে বলা যায়, বাংলাদেশকে যদি এগিয়ে যেতে হয়, তবে দখিনের দরজা খুলতে হবে এবং ভালোভাবেই। বাংলাদেশ সাড়ে তিন দিক একটি দেশ দিয়ে ঘেরা। শুধু একটি দিকই খোলা আছে। সেখান দিয়েই দখিনা বাতাস আমাদের গ্রহণ করতে হবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা