যুদ্ধ কেন লাগে, কারা কলকাঠি নাড়ে?

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০১

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৫৪ মাস পার হলো সম্প্রতি। একই সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ও ছয় মাস পেরিয়েছে। এর মাঝের সময়ে বহু দেনদরবার হলো; থামে থামে মনে হলেও যুদ্ধ চলছেই।


উভয় যুদ্ধ ফেব্রুয়ারিতে শুরু। আবহাওয়াবিদ্যায় ফেব্রুয়ারিকে বসন্ত আসার আগের ‘শেষ কষ্টকর মাস’ বলা হয়। চার্লস ডিকেন্স অবশ্য মোলায়েম করে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারি জানায়, উষ্ণ দিনগুলো বেশি দূরে নেই। তবে ফেব্রুয়ারি নিজেও উষ্ণ হতে পারে। ২০২২–এর ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬–এর ফেব্রুয়ারি বিশ্বের অনেক সংস্থার কোষাগারে অচিন্তনীয় উষ্ণতার সূচনা ঘটিয়েছে।


আবুধাবির এজ গ্রুপের কথাই ধরা যাক। ২০১৯–এ প্রতিষ্ঠার পর নিজ দেশ ও আশপাশের অঞ্চলে সীমিত পরিসরে অস্ত্রের ব্যবসা করত তারা। কিন্তু বিশ্বের দুই প্রান্তের সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধে ‘এজ’ অস্ত্রপাতির বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তারা পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে। অর্ডার পেয়েছে আরও ২৫ বিলিয়ন ডলারের।


চাহিদামতো অত্যাধুনিক অস্ত্রের উদ্ভাবন ও জোগানে হিমশিম খাচ্ছে এখন এজ। তাদের জন্য এ মুহূর্তে সুবিধার দিক হলো, উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছে। যেসব অস্ত্রের ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর অর্ডার আসছে তাৎক্ষণিক। অস্ত্রের গায়ে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ সিল থাকা মানে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।


উপসাগরীয় প্রতিটি দেশ আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় অঙ্কে বাজেট বাড়াচ্ছে। এ বছর কেবল আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আট বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে। অস্ত্র উৎপাদক কোম্পানিগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্য এখন সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো।


যুদ্ধে সব দেশ যে লকহিড মার্টিন বা আরটিএক্সের থার্ড সিস্টেম বা প্যাট্রিয়ট সিস্টেম কিনছে, তা নয়। মাঝারি ও ছোট সামর্থ্যের দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় সস্তা ড্রোন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে। এজ এ রকম ড্রোনের কারবারে সফলতা পেয়েছে। তার চোখে এখন বিশ্বের প্রধান ১০ অস্ত্র উৎপাদক কোম্পানির তালিকায় নিজেদের দেখার বাসনা। গত জুনে এজ প্যারিসে ইউরোপীয় অফিস খুলেছে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের উসকানিদাতাদের কাছে এজের মতো কোম্পানিগুলোর নীরব কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।


বিশ্বে অস্ত্র কেনাবেচার খবরের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত রাখে স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। এ বছরের ৯ মার্চ প্রকাশিত তাদের হিসাবে চলতি দশকের প্রথম চার বছরে আগের দশকের শেষ চার বছর থেকে বিভিন্ন দেশের অস্ত্র সংগ্রহ ১০ শতাংশ বেড়েছে।


এর মধ্যে ২০২১ থেকে পরবর্তী চার বছরে বিশ্বে অস্ত্র হস্তান্তরের ৪২ শতাংশ হিস্যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। আগের চার বছরে যা ছিল ৩৬ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকায় এ রকম হিস্যা আরও বাড়বে তাদের।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রাখতে ইসরায়েল ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের বড় এক সহযোগী। যুদ্ধে তেল আবিবের আগ্রহের জায়গাও কেবল ধর্মীয় বা জাতিগত নয়, যেমনটি মনে করা হয়। সিপ্রির হিসাবে গত এক দশকে অস্ত্র ব্যবসার ‘টপ টেনে’ ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের ওপরে উঠে গেছে।


এসব তথ্য থেকে যুদ্ধের ফল এবং যুদ্ধে কারা লাভবান হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। ইউক্রেনে উত্তেজনা তৈরি করে ২০২১-২৫–এ ইউরোপের দেশগুলোকে বিপুল অস্ত্র কেনানো হয়েছে। ২০২১–এর আগের চার বছরের তুলনায় পরের চার বছরে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি ২১৭ শতাংশ বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের বড় লক্ষ্য ছিল ইউরোপে ভীতি তৈরি। সেটা সফল হয়েছে। জেলেনস্কির মতো ভালো বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র বহু দশকে পায়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও