নতুন পে স্কেলে স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি

প্রথম আলো ড. সেলিম রায়হান প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত আয়ের ক্ষয় বিবেচনায় বেতন সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। এ নিয়ে বেশি দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু রাষ্ট্রের অর্থনীতির দিক থেকে প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।


বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার স্থায়ী ব্যয় বহনের সক্ষমতা কি সরকারের আছে? আরও বড় প্রশ্ন হলো, এই অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করবে কারা? 


এই ব্যয় একবারের নয়। নতুন বেতন ও পেনশন কার্যকর হলে তা প্রতিবছরই বাজেটে বহন করতে হবে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে প্রথম ধাক্কা কিছুটা কমবে, কিন্তু দায় কমবে না। বেতন ও পেনশন এমন ব্যয়, যা একবার বাড়লে সহজে কমানো যায় না। রাজস্ব কমলে উন্নয়ন প্রকল্প পিছিয়ে দেওয়া যায়, কিছু কেনাকাটা স্থগিত করা যায়, কিন্তু বেতন কমানো প্রায় অসম্ভব।


ফলে আগামী দিনের বাজেট আরও অনমনীয় হবে। জ্বালানিসংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, সামাজিক সুরক্ষা বা নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকারের হাতে স্বাধীনভাবে ব্যয় করার জায়গা কমে যাবে। 


এ কারণেই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত অর্থায়ন নিয়ে। সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো রাজস্ব বাড়ানো। কিন্তু বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বহুদিনের। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বছর শেষে বড় ঘাটতি থেকে যায়। এই বাস্তবতায় বড় একটি স্থায়ী ব্যয় যোগ করলে চাপ আরও বাড়বে। পে স্কেল কার্যকর করার আগে করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি রোধ, অযৌক্তিক কর-ছাড় কমানো, উচ্চ আয় ও সম্পদের ওপর কার্যকর কর নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা দরকার। রাজস্ব সংস্কার ছাড়া বেতন বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত ঋণ, অন্য খাতের ব্যয় সংকোচন অথবা বড় বাজেট ঘাটতিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। 


এখানে আরেকটি ঝুঁকি আছে। সরকারের আয় যতটা বাড়ছে, তার তুলনায় বাধ্যতামূলক ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সরকারের নীতিগত স্বাধীনতা কমে যাবে। তখন নতুন কোনো সংকটে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করা কঠিন হবে। বাজেট ক্রমেই বেতন, পেনশন, সুদ ও ভর্তুকির মতো স্থায়ী ব্যয়ের চাপে আটকে পড়বে। এই প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে দুর্বল করতে পারে। 


অন্য খাতের ব্যয় কেটে বেতন দেওয়া আরও খারাপ সমাধান হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা কিংবা উৎপাদনশীল অবকাঠামোর বরাদ্দ কমিয়ে সরকারি বেতন বাড়ানো হলে এক সংকট সামলাতে গিয়ে আরেক সংকট তৈরি হবে। বাংলাদেশ এসব খাতেই প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যয় করে। এমন একটি রাষ্ট্র, যে নিজের কর্মচারীদের বেশি বেতন দেয় কিন্তু স্কুল, হাসপাতাল, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবহন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় কম খরচ করে, সে হয়তো একটি গোষ্ঠীর কল্যাণ বাড়াবে, কিন্তু সামগ্রিক অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা দুর্বল করবে। 


ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভরতা সমানভাবে উদ্বেগজনক। সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ধার করে, ব্যাংকের জন্য রাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়া অনেক সময় বেসরকারি খাতের তুলনায় নিরাপদ হয়ে ওঠে। এতে উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হতে পারে, সুদের হার উঁচু থাকতে পারে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আরও দুর্বল হতে পারে। এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। রাষ্ট্র নিজের কর্মচারীদের আয় বাড়ায়, কিন্তু সেই ব্যয় মেটাতে গিয়ে যদি ব্যবসার ঋণ ব্যয় বাড়ে, তবে আজকের স্বস্তির বিনিময়ে আগামী দিনের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও