একাশিতে জাতিসংঘ, পুরোনো কাঠামোয় নতুন বিশ্ব

জাগো নিউজ ২৪ ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪

১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যে বৈশ্বিক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, ২০২৬ সালে তার বয়স ৮১ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বনেতারা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠা করা। ২০২৬ সালের ২৬ জুন জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের ৮১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। একাশি বছর পর তাই জাতিসংঘ টিকে আছে, কিন্তু কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা বেশ সরব এবং কোনো কোনো সময় এটি আরও প্রাসঙ্গিক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে পড়ে।


এসব আলোচনা-সমালোচনা জাতিসংঘের অস্তিত্ব নিয়ে সাধারণত কেউ করেন না। বরং এর কার্যক্ষমতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সামর্থ্য নিয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হয়ে থাকে। কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, দখল, গণহত্যা, শরণার্থী সংকট, ক্ষুধা, জলবায়ু বিপর্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন যখন অব্যাহত, তখন স্বাভাবিকভাবেই জানতে হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানটি আসলে কতটা করতে পারছে?


তবে জাতিসংঘকে শুধু যুদ্ধ থামানোর সক্ষমতা দিয়ে বিচার করাও ঠিক হবে না। শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিশু অধিকার, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আইন ও উপনিবেশমুক্তির ক্ষেত্রে গত আট দশকে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ যুদ্ধ ঠেকানোর প্রতিষ্ঠান, অথচ যুদ্ধ থামাতেই সে এখন বড় অসহায়। জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধের সংখ্যা, সংঘাতের বিস্তার এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ দেখলে মনে হয়, জাতিসংঘের সেই মূল দায়িত্ব কতটা সফল।


এর বড় কারণ নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের পক্ষে অধিকাংশ সদস্য ভোট দিলেও একটি স্থায়ী সদস্যের নেতিবাচক ভোট সেটি আটকে দিতে পারে। ফলে জাতিসংঘের কার্যকারিতা অনেক সময় আন্তর্জাতিক আইনের শক্তির চেয়ে পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।


এটি জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বৈপরীত্য। একদিকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব; অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে পাঁচ রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষমতা। ১৯৪৫ সালের বিশ্বব্যবস্থায় এই কাঠামোর ঐতিহাসিক যুক্তি ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী প্রধান শক্তিগুলোকে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু ৮১ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতি, জনসংখ্যা, সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ক্ষমতার কাঠামো মূলত একই রয়ে গেছে।


সম্প্রতি গাজা সংকট জাতিসংঘের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় গাজার যুদ্ধবিরতিকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা উঠে আসে। জাতিসংঘের ওই বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় পুনরুদ্ধার কার্যক্রম তখনও দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি।


এখানে জাতিসংঘের দুটি চেহারা দেখা যায়। একদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা জাতিসংঘের নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও