কাজে আসছে না পদক্ষেপ, সংকট কাটছে না সারের
সরকারি হিসাবে মজুত যথেষ্ট। শুধু হিসাবের খাতায় নয়, গুদামেও পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে। তবু বাস্তবে অনেক জায়গায় কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। কোথাও তো বিক্ষোভ ছাড়াও রীতিমতো লুটের মতো তুলকালাম চলেছে। পর্যবেক্ষকদের কথায়, সরকারের তথ্য আর মাঠের চিত্রে মিল নেই। তাঁদের যুক্তি, পর্যাপ্ত সার থাকলে মাঠের পরিস্থিতি এমন হতো না। আর সংকট যদি কৃত্রিমই হয়ে থাকে, তাহলে ত্রুটি সরকারের ব্যবস্থাপনায়। আর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও শীর্ষ কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ, এ জন্য পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের ডিলারসহ অসাধু মহলের অপতৎপরতা দায়ী।
বরাদ্দ বাড়লেও হাহাকার
বরাদ্দ বাড়লেও দেশের বিভিন্ন অংশে চলতি আমন মৌসুমে প্রয়োজনমতো সার না পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কুড়িগ্রামে একের পর এক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। গত সোমবার রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ডিলার পয়েন্ট ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, সারের অভাব না থাকলেও বেলা ১১টায়ও বিতরণ শুরু না হওয়ায় ভোররাত থেকে অপেক্ষমাণ কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে অনেকে গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট করেন। একই দিন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড়া এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় বিভিন্ন সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরিয়ার বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন। এ বছর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ টন।
ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় জেলার ৯ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার থেকে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এতে করে কৃষকেরা সহজে খুচরা বাজারে সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন।’
বিতরণের সমস্যার একই চিত্র রাজশাহীতে। সবশেষ গত সোমবার জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে সারের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে। আগামী মাস থেকে রাজশাহীতে আলু চাষ শুরু হবে। জানা গেছে, এ জন্য আলুচাষিদের অনেকে আগাম সার কেনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া সার পাওয়া যাচ্ছে না, এমন কথা ছড়িয়ে পড়ার পর চাহিদা না থাকলেও অনেকে সার কিনছেন। ফলে সংকট দেখা দিচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, মজুতের উদ্দেশ্যে কৃষকেরা আগাম সার কেনার চেষ্টা করছেন। অথচ বর্তমানে মাঠে কী ফসল আছে এবং তাতে কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে হিসাব করেই বরাদ্দ আসে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- সার সরবরাহ