একটি সরকার যেভাবে দুর্বল হয়

প্রথম আলো এ কে এম আহসান উল্লাহ প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২

একটি সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে গেলে বা বিরোধী দল শক্তিশালী হলে কিংবা রাজপথে বড় আন্দোলন শুরু হলেই সরকারটি দুর্বল হয়ে যায় না। সরকারের দুর্বলতা অনেক আগেই শুরু হতে পারে—বাজারে, থানায়, হাসপাতালে, রাস্তায়, ব্যাংকে, সরকারি অফিসে, চাকরির বাজারে এবং সাধারণ মানুষের পরিবারের মাসিক হিসাবের খাতায়।


রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, সরকারের শক্তি শুধু তার বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে মাপা যায় না; বরং তার প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় সে কতটা দক্ষতার সঙ্গে আইন কার্যকর করতে পারে, সেবা দিতে পারে, অর্থনীতি পরিচালনা করতে পারে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং নাগরিকের আস্থা ধরে রাখতে পারে।


বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ, তরুণ জনসংখ্যার এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দেশে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে মানুষ সরকারের উপস্থিতি প্রতিদিন অনুভব করে। বিদ্যুৎ থাকছে কি না, হাসপাতালে চিকিৎসা মিলছে কি না, রাস্তায় নিরাপদে চলা যাচ্ছে কি না, বাজারে দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে আছে কি না, পাসপোর্ট বা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ হচ্ছে কি না—এ সবই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতার মাপকাঠি।


বিশ্বব্যাংকও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ মূল্যায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজস্ব সংগ্রহ, সরকারি ক্রয়, তথ্যব্যবস্থা, নিরীক্ষা ও সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নাগরিক আস্থা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে।


এর সঙ্গে যুক্ত হয় কর্মসংস্থানের প্রশ্ন। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। তাঁদের জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারা শুধু অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়; দীর্ঘ মেয়াদে এটি রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়। একজন বেকার বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকের কাছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো কিংবা উন্নয়নের পরিসংখ্যান খুব বেশি অর্থ বহন করে না, যদি তিনি নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে না পান। 


২০২৬ সালের এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংকিং খাতের চাপ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি, ফলে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এখানেই আসে মূল্যস্ফীতি ও আয় কমে যাওয়ার অনুভূতি।


মানুষের আয় কাগজে হয়তো একই আছে, কিন্তু যদি ১০ হাজার টাকায় আগে যে বাজার করা যেত, এখন তার জন্য ১৩ বা ১৪ হাজার টাকা লাগে, তবে প্রকৃত অর্থে তার আয় কমেছে। তখন মুদ্রানীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সমন্বয়ের দুর্বলতা সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছে যায়। রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে মূল্যস্ফীতি বোঝানো কঠিন। কারণ, মানুষ মূল্যস্ফীতির হার দেখে না, সে দেখে চালের দাম, ডিমের দাম, বাসাভাড়া, শিশুর স্কুলের খরচ এবং চিকিৎসার বিল। 


যানজটও সরকারের সক্ষমতার একটি অবমূল্যায়িত রাজনৈতিক সূচক। ঢাকা কিংবা বড় শহরে একজন মানুষ যদি প্রতিদিন তিন ঘণ্টা রাস্তায় হারান, তিনি শুধু সময় হারাচ্ছেন না; রাষ্ট্র উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে, পরিবার সময় হারাচ্ছে, জ্বালানি অপচয় হচ্ছে এবং মানুষের মানসিক চাপ বাড়ছে। ফ্লাইওভার নির্মাণই নগর-পরিকল্পনা নয়। কোথায় মানুষ বাস করবে, কোথায় কর্মসংস্থান হবে, গণপরিবহন কীভাবে চলবে, ফুটপাত কার জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি কতটা নিয়ন্ত্রিত হবে—এসব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে যানজট সরকারের দূরদর্শিতার ঘাটতি প্রকাশ করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও