মূল্যস্ফীতি: জীবনে অস্বস্তি, বাজার ব্যর্থতা, নীতির দ্বিধা

www.ajkerpatrika.com এম এম মুসা প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে তা ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সংখ্যাটি দেখলে মনে হতে পারে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাস্তবতা তা বলে না। গত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম গতিতে। প্রতি মাসে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি নেমেছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, কিন্তু খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। একদিকে সামান্য স্বস্তি, অন্যদিকে নতুন চাপ। এই টানাপোড়েনই বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সমস্যার প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে। এটি সাময়িক বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত অসুখ।


উচ্চ মূল্যস্ফীতির বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। যাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য, বাসস্থান ও পরিবহনে ব্যয় হয়। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হচ্ছে এবং ঋণনির্ভরতা বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি তাই শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি নীরব দারিদ্র্য-উৎপাদনকারী প্রক্রিয়া।


কাঠামোগত কারণ চারটি


তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল। তখন মূল্যস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। কিন্তু চার বছর পর বৈশ্বিক পণ্যমূল্য অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসার পরেও বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। এর পেছনে অন্তত চারটি কাঠামোগত কারণ চিহ্নিত করা যায়।


প্রথম কারণ টাকার অবমূল্যায়ন ও বিনিময় হারের অস্থিরতা। আইএমএফের শর্ত মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রলিং পেগ পদ্ধতি চালু করেছিল, যাতে ধাপে ধাপে পূর্ণ বাজারভিত্তিক বিনিময় হারে উত্তরণ ঘটে। কিন্তু বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নেই। কখনো হস্তক্ষেপ, কখনো ছাড়, এই দোদুল্যমানতা আমদানি ব্যয় অননুমেয় করে তুলেছে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে টাকার প্রতিটি পতন সরাসরি ভোক্তামূল্যে যুক্ত হয়, বিশেষ করে জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও শিল্প কাঁচামালে।


দ্বিতীয় কারণ বাজারকাঠামোর প্রতিযোগিতাহীনতা। বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের বাজার হাতে গোনা কয়েকটি করপোরেট গোষ্ঠী ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের নিয়ন্ত্রণে। ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলুর মতো পণ্যে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হয়। প্রতিযোগিতা কমিশন কার্যত নিষ্ক্রিয়। কারণ, তাদের তদন্তক্ষমতা ও জনবল উভয়ই অপ্রতুল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশের বাজারে পড়ে ধীরে, আর বাড়লে প্রতিফলন পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে। অর্থনীতিবিদেরা যাকে বলেন ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য সঞ্চালন’।


তৃতীয় কারণ রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। সরকারি ভর্তুকি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাজেট ঘাটতিকে চাপে রাখে। ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা মুদ্রা সরবরাহ বাড়ায়। মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি আর প্রকৃত উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্যহীনতাই মূল্যস্ফীতির অন্যতম মৌলিক কারণ, যা নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।


চতুর্থ কারণ রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতের নিম্নতা। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখন প্রায় ৮ শতাংশ, কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। কর না বাড়িয়ে ব্যয় নির্বাহের প্রতিটি চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ঋণ বা মুদ্রা সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থায়িত হয়, যা মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও