হত্যাকাণ্ড বাড়ছে, রাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতা কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫

তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। সেই ঘর থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছিল পচা গন্ধ। প্রথমে বিড়াল মারা গিয়ে পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করেছিল সবাই। পরে গন্ধ তীব্র হওয়ায় কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখে, সেখানে খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পড়ে আছে। তাঁদের পাশেই পড়ে আছে তাঁদের অনাগত সন্তানের মৃত ভ্রূণ। অর্থাৎ মাকে এতটাই নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে যে তাঁর পেটে থাকা পাঁচ মাসের ভ্রূণটি বেরিয়ে এসেছে। এই নির্মম ঘটনার কথা কল্পনা করাও অসম্ভব, অথচ তাই ঘটেছে এই দেশে।


এই একটি নয়, এরকম বহু ঘটনা ক্রমাগত ঘটেই যাচ্ছে। বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসে দুর্গন্ধ, দরজা ভেঙে দেখা যায় ভেতরে পড়ে আছে বিকৃত মরদেহ। কাকে, কখন, কে এবং কেন হত্যা করেছে, সেটা উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে কখনো কখনো। শুধু এলোমেলো পড়ে থাকা প্রাণহীন দেহগুলোই যেন সত্য। প্রায় প্রতিদিন দুই-তিনটি মরদেহ উদ্ধার করার ঘটনা যেন আমাদের কাছে নিয়মিত হয়ে গেছে।


এ ছাড়া পথের ধারে, নদীতে বা পুকুরে, জঙ্গলে, পার্কে বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপরেও মরদেহ পড়ে থাকার ব্যাপারটাও খুব স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই তো ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশে খুনের ঘটনায় মোট ২,০৭৬টি মামলা হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৯৬টি হত্যার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার বাইরেও রয়ে যাচ্ছে আরও বহু হত্যার ঘটনা। মোট নিহতের সংখ্যা জানাও যায় না সবসময়।


এইসব হত্যাযজ্ঞ দেখে দেখে ভয় হচ্ছে যে ধীরে ধীরে সহিংসতা যেন মানুষের কাছে ‘অস্বাভাবিক ঘটনা’ না হয়ে পরিচিত সামাজিক আচরণে পরিণত হয়। চলমান অপরাধ আমাদের মধ্যে এক ধরনের ‘নেতিবাচক সহ্যক্ষমতা’ তৈরি করেছে, যার প্রভাব খুবই খারাপ। অপরাধপ্রবণতায় যে অতিরিক্ত হিংস্রতা যুক্ত হয়েছে, তাতে অপরাধীদের আচরণে মানসিক বিকৃতির লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য খুন হওয়ার ১৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট)। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। কোনো ক্ষেত্রে এক পরিবারের দুজন, কোনো ক্ষেত্রে তিনজন, কোনো ক্ষেত্রে চারজন এবং পাঁচজনও নিহত হয়েছেন। (প্রথম আলো)


মানুষগুলো কেন নিহত হচ্ছেন, এর চেয়েও প্রশ্ন—কতজন অপরাধী ধরা পড়ছে? কতটি মামলার সুরাহা হচ্ছে? কতজন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে? রংপুরের গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ এটা নিয়ে যত ধরনের বয়ান দিয়েছে, এর প্রতিটিই আজ প্রশ্নের মুখে। অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও কম-বেশি একই কথা প্রযোজ্য। উপর্যুপরি অপরাধ ঘটছে, কিন্তু অপরাধীরা কই?


সাধারণত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে থাকে সম্পত্তি বা জমি নিয়ে বিরোধ, মাদক, দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ, লোভ, অনৈতিক সম্পর্ক, হিংসা, রাগ ও প্রেম বা আরও কোনো তুচ্ছ ঘটনা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও