ময়মনসিংহ অঞ্চল: স্বস্তির ট্রেনযাত্রায় এখন ভোগান্তি-মৃত্যুঝুঁকি
একসময় স্বস্তি ও নিরাপদ যাত্রার অন্যতম মাধ্যম ছিল ট্রেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রেনযাত্রাই এখন পরিণত হয়েছে ভোগান্তি আর মৃত্যুঝুঁকির যাত্রায়। লাইনচ্যুত হওয়া, ইঞ্জিনে আগুন লাগা কিংবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে ট্রেন আটকে পড়া—নিত্যদিনের এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে যাত্রীদের। দেশের অন্যতম ব্যস্ত ময়মনসিংহ-ঢাকা, জামালপুর, মোহনগঞ্জ, ঝারিয়া, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেলপথের অনেক লাইনই ৭০ বছর বা তারও বেশি পুরোনো। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ও জরাজীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে লাখো যাত্রীর কাছে এখন রেলযাত্রা যেন স্বস্তির বদলে গলার কাঁটা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনযাত্রায় দুর্ঘটনা, ইঞ্জিন বিকল ও লাইনচ্যুতি যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত তিন মাসে পাঁচটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ইঞ্জিন বিকল, আগুন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইনচ্যুতিসহ অন্তত ২২টি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটেছে।
সর্বশেষ ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার এলাকায় ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, ট্রেনের ইঞ্জিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কারণে সামান্য ত্রুটিতেই তিস্তা এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে যায়। পরে বিকল্প ইঞ্জিনে তিস্তা এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে আনা হলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ট্রেন লাইনচ্যুত, ইঞ্জিন বিকল, ইঞ্জিনে আগুন এখন নিয়মিত ঘটনা বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- ট্রেন লাইনচ্যুত
- লাইনচ্যুত