অন্যের অপমান ‘মজা’ নয়: বুলিংয়ের মনস্তত্ত্ব ও সমাজের দায়বদ্ধতা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোর করে চুল কাটিয়ে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ তদন্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে ঘটনাটি একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—একটি শিশুর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আসলে কার? আর এর পেছনে আরও বড় প্রশ্ন, ‘মজা’, ‘দুষ্টুমি’ বা ‘শাসন’ ইত্যাদি নামে আমরা কত অপমানজনক আচরণকে স্বাভাবিক করে তুলেছি।
বন্ধুদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক, কিন্তু সুস্থ রসিকতা আর বুলিং এক নয়। যেখানে দুজনেরই স্বাচ্ছন্দ্য থাকে, সেখানে মজা থাকতে পারে; কিন্তু একজনের আনন্দ যদি অন্যজনের অপমানের কারণ হয়, সেটি আর মজা থাকে না। এই অপমান কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে আছে গোটা সমাজে।
আমরা মাঝেমধ্যেই কিছু আপত্তিকর ঘটনা ঘটতে দেখি। অনেকে জোর করে বাউল-ফকিরদের চুল-দাড়ি কেটে দেয়। না বুঝেই তাদের পোশাক-আশাক ও বিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। কেউ আবার অন্যের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে হাসাহাসি করে। গায়ের রং, চেহারা বা তোতলানো নিয়ে বিদ্রূপাত্মক নাম দেওয়া হয়। কেবল দর্শকের মনোযোগ পাওয়ার জন্য কাউকে অপমান করে ভিডিও বানানো হয়। এসব কাজকে ‘মজা’ বলা হলেও এগুলো আসলে নিষ্ঠুর বুলিং।
- ট্যাগ:
- মতামত
- সাইবার বুলিং
- বুলিংয়ের শিকার