দেশের কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব

www.ajkerpatrika.com শাইখ সিরাজ প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬

মানবসভ্যতার উন্মেষ ও বিকাশের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কৃষির ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে জানতে ইচ্ছে হয়, কে প্রথম জমির মাটি আলগা করতে লাঙল আবিষ্কার করেছিল? সেই লাঙল আবিষ্কারের মাধ্যমেই কৃষিতে প্রথম যন্ত্রের ছোঁয়া লেগেছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে কৃষির ধরনেও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। ১৭৬০ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে যে প্রথম শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তা মানুষের কায়িক শ্রমকে কিছুটা হলেও যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল। পরবর্তীকালে ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ফলে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব এবং ১৯৬০ সালে তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভবের মাধ্যমে তৃতীয় শিল্পবিপ্লব সারা বিশ্বের উৎপাদনব্যবস্থায় এক অভাবনীয় গতির সঞ্চার করে। এই প্রতিটি বিপ্লবই কৃষিকে ধাপে ধাপে আধুনিক থেকে আধুনিকতর করেছে। বর্তমানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ইন্টারনেট অব থিংসের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো কৃষিতে এক অভাবনীয় যান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা করেছে।


বিশ্বজুড়ে কৃষিপ্রযুক্তির এই বিপুল অগ্রগতি বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজিত কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীগুলোর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবছর চীনে অনুষ্ঠিত হয় চায়না ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল মেশিনারি এক্সিবিশন। এ বছর অক্টোবরে চীনের তিয়ানজিন শহরে আয়োজন করা হবে বিশাল এক প্রদর্শনী। এতে প্রায় তিন লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিশ্বের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বাধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। গত বছর এই আয়োজন হয়েছিল চীনের উহানে। লাখ লাখ দর্শনার্থী ও পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে এসব আয়োজন প্রমাণ করে যে, আধুনিক কৃষির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি যন্ত্র এবং প্রযুক্তিনির্ভর হতে চলেছে। এসব প্রদর্শনীতে তুলে ধরা প্রযুক্তিগুলো কেবল উৎপাদন বাড়ানোর কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং এগুলো মানুষের কায়িক শ্রমকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার এক বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করছে।


কৃষিকাজে বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় খরচের ও চিন্তার জায়গাটি হলো শ্রমিক। মোট খরচের প্রায় অর্ধেকই চলে যায় এই শ্রমিক খাতে। ফসল বোনা কিংবা কাটার মৌসুমে বাংলাদেশে যে তীব্র শ্রমিক-সংকট তৈরি হয়, তা কৃষকদের জন্য এক বিশাল লোকসান হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধানে উন্নত দেশগুলো এখন স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকেছে। আধুনিক ট্রাক্টরগুলোতে এখন আর চালকের প্রয়োজন হয় না। আগে ট্রাক্টর চালানোর জন্য দক্ষ চালকের দরকার হতো এবং মানুষের চালানো যন্ত্রে অনেক সময় ফসলের মাঠের লাইন সোজা হতো না। কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যন্ত্রগুলো সম্পূর্ণ নিজেদের মতো করে চলতে পারে। আগে থেকে প্রোগ্রাম করে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো এতই নিখুঁতভাবে কাজ করে যে ভুলের কোনো অবকাশ থাকে না। চীনের কৃষি যন্ত্রপাতি মেলায় প্রতিবছর নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি দেখেছি, যা সময়ের সঙ্গে উন্নত হয়ে আসছে।


প্রযুক্তির কল্যাণে কৃষকদের এখন আর রোদ, বৃষ্টি বা কাদায় নেমে অমানবিক কষ্ট করার প্রয়োজন পড়ছে না। আধুনিক কৃষিব্যবস্থা এতটাই স্মার্ট হয়ে উঠেছে যে একজন কৃষক চাইলে নিজের ঘরে একটি আরামদায়ক চেয়ারে বসেই পুরো খামারের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। মনিটরের সামনে বসে বিভিন্ন ভাষা যেমন ইংরেজি, স্প্যানিশ বা রুশ ভাষা ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পরিচালনা করা সম্ভব। ঘরে বসেই কৃষক দেখতে পারেন তাঁর জমির কোথায় সেচ দরকার, কোথায় সার প্রয়োগ করতে হবে কিংবা ফসল তোলার সময় হয়েছে কি না। ২০১৯ সালে চীনের চিংদাওয়ের এক কৃষি খামারে একটি ট্রাক্টর কাজ করছে দেখে অপেক্ষা করছিলাম, ট্রাক্টর কাছে আসলে সেখানে থাকা কৃষকের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু ট্রাক্টরটি কাছে আসলে দেখি সেখানে কোনো চালক নেই। অটোমেটেড ট্রাক্টরটি পরিচালনা করছেন কৃষক ঘরে বসে। এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে পারে, যারা মূলত কায়িক শ্রমের ভয়ে কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।


আধুনিক কৃষিতে সেচব্যবস্থাপনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে এখন আগের মতো নিয়ম করে বৃষ্টি হয় না। ফলে সেচের পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এখন এমন স্মার্ট প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে যার মাধ্যমে কৃষক যেকোনো জায়গায় বসে নিজের হাতের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেই সেচপাম্প চালু বা বন্ধ করতে পারেন। এর ফলে অতিরিক্ত শ্রমিকের যেমন প্রয়োজন হয় না, তেমনি সময় ও খরচও বেঁচে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা ব্যবহার করলে প্রায় ৩০ শতাংশ পানির অপচয় রোধ করা সম্ভব। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এসব প্রযুক্তি সৌরশক্তিতে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের তার টানা বা লোডশেডিংয়ের মতো কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও