গাজীপুর থেকে সলিমপুর : প্রতিরক্ষা শিল্পের পথচলা

যুগান্তর মোহাম্মদ বায়েজিদ সরোয়ার প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০

১৯৭০ সালের ৬ এপ্রিল। সবুজবেষ্টিত গাজীপুরের ভাওয়াল অঞ্চলে বসন্তের শেষ সময়। সাদা মেঘের মতো অপরূপ ফুল ফুটেছে গজারি বনে। সেদিন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট গাজীপুরে ‘পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ উদ্বোধন করেন। স্বাধীনতার পর এ সমরাস্ত্র কারখানাটি ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ বা বিওএফ হিসাবে দেশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এর ৫৬ বছর পর, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের নিকটবর্তী সলিমপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের প্রায় ৫৫ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


হস্তান্তর চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া হলে সলিমপুর বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার সূচনা করতে পারে। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু কারখানা নির্মাণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, বেসরকারি শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয়, সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার সমন্বয়।


দীর্ঘ পথচলার ইতিহাস


বাংলাদেশের এ অঞ্চলে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের দাবি নতুন ছিল না। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ৬ দফার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় এবং ১৯৬৯ সালের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফায় পূর্ব পাকিস্তানে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের দাবি উঠে আসে। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক দুর্বলতাও স্পষ্ট করে দেয়। এরপর গাজীপুরের চতর এলাকায় সমরাস্ত্র কারখানা প্রতিষ্ঠার (১৯৬৮) কাজ এগিয়ে যায়। চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় (নরিনকো) প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এ দেশের মেধাবী সন্তান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহুর উল ইসলাম এ প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক হিসাবে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।


শুরুতে মূলত রাইফেল ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে কারখানার সক্ষমতা বাড়ে। স্বাধীনতার পর বিওএফ বাংলাদেশের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উৎপাদন করে আসছে। এখন সলিমপুরে দ্বিতীয় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ সেই দীর্ঘ পথচলার নতুন অধ্যায়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া উদ্যোগটি বাস্তবায়িত করল এ সরকার।


কেন সলিমপুর গুরুত্বপূর্ণ


ভাটিয়ারি ও ফৌজদারহাটের মাঝে অবস্থিত সলিমপুরের অবস্থানের কয়েকটি সুবিধা আছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কাছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগও ভালো। ফলে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি পরিবহণ সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো পণ্য রপ্তানি করা হলে বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগও কাজে লাগবে; কিন্তু সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে। পুরোনো টেক্সটাইল মিলের ভবনও সরাসরি আধুনিক প্রতিরক্ষা কারখানা হিসাবে ব্যবহার করা যাবে-এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। প্রথমে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও নিরাপত্তা জরিপ প্রয়োজন। যেসব স্থাপনা ব্যবহারযোগ্য, সেগুলো প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গবেষণাগার বা গুদাম হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। মূল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনে নতুন ও বিশেষায়িত অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও