ফুটবল বেচার পণ্য নয়, অনাস্থার জন্ম দিয়েছে ফিফা

কালের কণ্ঠ ইকরামউজ্জমান প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১

আন্তর্জাতিক খেলার দুনিয়ায় বর্তমান সময়ে সবচেয়ে পরিচিত, আলোচিত এবং ক্ষমতাবান নেতা হলেন সুইস নাগরিক ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার স্বীকৃত সদস্য দেশের সংখ্যা হলো ২১১।


অলিম্পিকের প্রেসিডেন্টের নাম যত না বেশিবার প্রতিদিন উচ্চারিত হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত হয় ফিফার সভাপতির নাম এবং তাঁর ভূমিকা। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সাল থেকে ফিফার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনজ্ঞ ইনফান্তিনো একসময় ‘উয়েফার’ সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। যা হোক, ভোটযুদ্ধে ২০১৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পর পর দুই মেয়াদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জিয়ান্নি।


ফিফার পরবর্তী নির্বাচন হবে ২০২৭ সালের ১৯ মার্চ মরক্কোর রাবাতে, আর এই নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন জিয়ান্নি। তখন পরিবেশ ও পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে ছিল, কিন্তু গত ৩০ জুলাই তাঁর একত্ববাদী বিতর্কিত প্রস্তাবে ফুটবল দুনিয়ায় অস্থিরতার জন্ম হওয়ায় তাঁর নিজস্ব অবস্থান দারুণভাবে ঝাঁকুনি খেয়েছে এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ফিফার ঐক্য এবং সংহতিতে ধরেছে ফাটল। পরস্পর পরস্পরের মধ্যে অবিশ্বাস এবং বিদ্বেষের জন্ম দিয়েছে। ফুটবলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ভর করেছে।


এতে বলা মুশকিল আগামী বছর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি যদি তাঁর তৃতীয় টার্ম সম্পন্ন করতে পারেন (তাঁর কাছের কিছু ফুটবল নেতা সরে গেছেন। প্রকাশ্যে তাঁর একনায়কতন্ত্র এবং গোপনীয় কার্যকলাপের বিরোধিতা করেছেন), এতে তিনি শেষ পর্যন্ত চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না? যদি করেন, তাহলে তাঁকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলা করতে হতে পারে। ফুটবলে মহাদেশীয় সংস্থাগুলো নেতৃত্ব দেয়। সংস্থার সদস্য দেশগুলো যে সব সময় মহাদেশীয় সংস্থার সঙ্গে থাকে, তা কিন্তু নয়।


অনেক সদস্য দেশের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং অপছন্দ সবচেয়ে বড় কথা, দেশের অ্যাসোসিয়েশনের স্বার্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব পায়। আফ্রিকা ও এশিয়ার (এএফসি) অনেক দেশের ফুটবল কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফিফার অনুদানে। এতে তথাকথিত ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আগামী বছর মার্চের নির্বাচনে এই বিষয়টি অবশ্যই বেশ বড় হয়ে সামনে আসবে বলে মনে হচ্ছে। ফুটবলের পেছনে যে জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি কাজ করে, এর মদদ আসে কিন্তু অন্য জায়গা থেকে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন ঠিক হবে না। ফুটবল বিশ্বে জিয়ান্নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনের একজন। ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার পর জিয়ান্নি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফুটবলের শান্তি পুরস্কার দিয়ে তাঁকে খুশি করেছেন। জিয়ান্নি এবার বিপদে পড়ার পর ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছেন, আর এটি পেয়েছেনও।


বর্তমানে ফিফায় চলছে অস্থিরতা। কেউ কেউ মনে করেছিলেন সভাপতির চিন্তা এবং প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়ার পর জিয়ান্নি প্রচণ্ড বিরোধিতা থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু তা হয়নি, তাঁকে ঘিরে নতুন নতুন অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া ছাড়াও বেশ কিছু বিতর্ক সামনে চলে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে ফিফার নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে ফিফার গভর্নিং বডির কার্যকলাপে বিভিন্ন ধরনের লুকোচুরি খেলা নিয়ে, যা ফিফার ভাবমূর্তিকে বিশ্ব জনসমাজে ক্ষুণ্ন করেছে। এইতো কিছুদিন আগে তিন মহাদেশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা কনক্যাকাফ ও এএফসি এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলে স্পষ্ট বলে দিয়েছে—ফুটবল কোনো ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়। এখানে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা কিংবা ক্ষমতার জোর দেখানোর বিষয় নয়। যে ফুটবল পরিবার দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের সেবা করার একটি আমানত এটি।


ফুটবলে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট টানার সংস্কৃতি অনেক আগের। অনেক দেশের অ্যাসোসিয়েশন এই ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হয়। ফুটবল চালাতে হলে তো অর্থ এবং বিভিন্ন সহযোগিতার প্রয়োজন। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশের অর্থনীতির বনিয়াদ অন্য রকম—আর তাই তারা পারে একত্র হয়ে লড়াই করতে। কনক্যাকাফ ও এএফসি ঐক্যে তো সহজেই ফাটল ধরে! বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রলোভন আর্থিক অনুদান এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সব সময় একটি বিশেষ বিষয়। এই যে ৬৪টি দেশের আগামী বিশ্বকাপে খেলার কথা বলা হচ্ছে। ২০৩০ বিশ্বকাপে ১৮ চায় আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ের পেছনেও তো রাজনীতির ঘুঁটির চাল আছে। এদের দাবি শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হলে এদের সংস্থাগুলো, অন্যরাও ফিফার সভাপতি পদে জিয়ান্নিকে সমর্থন দেবে, এটি নিশ্চিত। চলতি মাসের সম্ভবত দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি দৈনিকে দেখেছি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত ফিফার সভাপতির নির্বাচন অবস্থান সম্পর্কে কোনো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ বৈঠকে বসে এটি সিদ্ধান্ত নেবে। কেননা এর সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় জড়িত আছে। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই চিন্তা-ভাবনার বিষয়। অন্যরা অনেক কিছু পারে, আমরা পারি না। কারণ হলো আমাদের পদে পদে সীমাবদ্ধতা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলসের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ২০২৭-২০৩১ এই টার্মে ইনফান্তিনোকে তাঁরা যে সমর্থন দিয়েছিলেন, সেটি প্রত্যাহার করেছেন। ইউরোপের অনেক দেশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে প্রকাশ্যে। দেশগুলোর কাছে মনে হয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত ফুটবলের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য। ফুটবল নিয়ে কারো ছিনিমিনি খেলার অধিকার নেই। ফুটবলে স্বচ্ছতা সবচেয়ে বড় বিষয়। ফুটবলে লাগামহীন বাণিজ্যকরণ খেলাটির ক্ষতি করছে।


ফিফা গত ৩০ জুলাই বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। উয়েফা বিষয়টির বিরোধিতা করেছে সবার আগে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা বলেছে, বিশ্বকাপ কোনো কেনাবেচার পণ্য নয়। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই ফিফা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেটি তারা নিতে পারে না। সুশাসনের অভাব, আলোচনা না করার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো চরম পদক্ষেপের কথা তারা জানিয়েছে। একইভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও