পরীক্ষায় এক দিনের ব্যর্থতায় এক বছরের শাস্তি!

প্রথম আলো মো. ইমরান আহম্মেদ প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫

বাংলাদেশে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হওয়া পাবলিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি দাখিল, আলিম, কারিগরি পরীক্ষাও লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।


যদিও দেশে ইংরেজি মাধ্যমসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, তবু সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী এই জাতীয় পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমেই উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের পথে এগিয়ে যায়।


ফলে এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল কেবল একটি বছরের মূল্যায়ন নয়; বরং তা একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবনের পরিচয়পত্রে পরিণত হয়।


কিন্তু আমাদের বর্তমান পরীক্ষাব্যবস্থায় একটি মৌলিক প্রশ্ন নতুন করে তোলা দরকার। কোনো শিক্ষার্থী যদি একটি বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়, তাহলে তাকে কেন পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে?


এই এক বছরের অপেক্ষা কি সত্যিই শিক্ষার মান নিশ্চিত করে, নাকি এটি আমাদের তরুণ জনশক্তির মূল্যবান সময়ের অপচয় ঘটায়?


একজন শিক্ষার্থীর জীবনে খারাপ দিন আসতেই পারে। অসুস্থতা, মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সে নির্দিষ্ট একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে না–ও পারে।


একটি দিনের দুর্বল পারফরম্যান্স কি তার পুরো বছরের পরিশ্রমকে অস্বীকার করতে পারে? আরও বড় প্রশ্ন হলো, সেই একটি দিনের ব্যর্থতার জন্য তার জীবন থেকে একটি সম্পূর্ণ বছর কেড়ে নেওয়া কতটা ন্যায়সংগত?


শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং শেখার সুযোগ তৈরি করা। একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো বিষয়ে দুর্বল হয়, তাহলে তাকে দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়াই হওয়া উচিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য।


অথচ আমাদের দেশে একজন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ে তার সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, নতুন জীবনে প্রবেশ করে, আর সে মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে।


অনেক ক্ষেত্রে এই অপেক্ষা হতাশা, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার মতো নেতিবাচক প্রবণতাও তৈরি করে।


বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি নমনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো কোর্সে অকৃতকার্য হলে নির্দিষ্ট সময় পর পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।


আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মান নির্ধারণী পরীক্ষায়, যেমন আইইএলটিএস, টোফেল বা এসএটি—পরীক্ষার্থী চাইলে একাধিকবার পরীক্ষা দিতে পারে।


সেখানে লক্ষ্য থাকে একজন শিক্ষার্থীর সর্বশেষ সক্ষমতা যাচাই করা, অতীতের একটি ভুলকে চিরস্থায়ী শাস্তিতে পরিণত করা নয়।


অবশ্যই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কাঠামো আন্তর্জাতিক ভাষাদক্ষতা পরীক্ষার মতো নয়। এখানে নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, প্রশাসনিক ব্যয় ও পরীক্ষার নিরপেক্ষতা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।


তাই একই ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ করা সম্ভব না–ও হতে পারে। কিন্তু তাই বলে একটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীকে এক বছর অপেক্ষা করানোই একমাত্র পথ—এমন ধারণারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও