বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে ভাবনা

www.ajkerpatrika.com মামুনুর রশীদ প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪

বানভাসি, দারিদ্র্য, অভাব-অনটন, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি—এসবকে ছাপিয়ে গত এক মাস দেশের মানুষ একটানা ফুটবলের ঘোর ও স্বপ্নের মধ্যে দিন-রাত কাটিয়েছে। এর মধ্যে তাদের জীবনে এসেছে কখনো আনন্দ, কখনো বিষাদ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই সংক্রমিত হয়েছে এই ফুটবল-জ্বর।


দুর্ভাগ্য যে ৪৮টি দলের মধ্যে আমাদের দেশ যুক্ত হতে পারেনি। অথচ বাল্যকালে, কৈশোরে অথবা যৌবনে আমাদের দেশেও আমরা ফুটবল-জ্বরে আক্রান্ত হতাম। সেই আন্তস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে আগাখান গোল্ডকাপ পর্যন্ত অস্থির হয়ে থাকতাম ক্রীড়ার আনন্দে। স্কুলের বাইরেও গ্রামে-গ্রামে টুর্নামেন্ট হতো, একেকটার একেক নামে। সেই বুটবিহীন খালি পায়ে খেলতে দেখেছি, তারপর আস্তে আস্তে বুটের প্রচলন হলো; বাহারি জার্সি এল, সেও এক উত্তেজনা। জাম্বুরা দিয়ে খেলা শুরু করে প্লাস্টিক এবং চামড়ার ফুটবল—যখন যেখানে সম্ভব তা দিয়ে খেলা চলেছে। সারা পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমী দেশগুলোতেও একই ইতিহাস।


আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল অথবা কলম্বিয়া, চিলি—সর্বত্রই একই ইতিহাস। একেবারেই দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা ম্যারাডোনা বস্তির জীবন থেকে খেলতে খেলতেই বিখ্যাত হয়ে যান। দক্ষিণ আমেরিকার যেসব ধনী দেশ, কিন্তু মানুষ দরিদ্র, সেসব দেশেও ফুটবল অন্যান্য খেলা থেকে ভীষণ জনপ্রিয়। আজকাল অবশ্য সেসব দেশে ফুটবলাররাও অনেক অর্থ-সম্পদের মালিক। আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফুটবলে একটা বড় জোয়ার এসেছিল।


মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেখেছি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠন করা হয়েছিল। দেশভাগের বেশ আগে থেকে অবিভক্ত বাংলায় ইস্ট বেঙ্গল ও মোহনবাগান দুটি দল পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিনিধিত্ব করত। একই সময় ঢাকায় ওয়ারী ক্লাব পূর্ব বাংলা থেকে গিয়ে কলকাতায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করে।


ক্রিকেট জনপ্রিয় হলেও অন্তত কলকাতায় এখনো ফুটবল খেলা সংস্কৃতিতে প্রথম স্থানেই রয়েছে। ইস্ট বেঙ্গল ও মোহনবাগানের খেলা যেদিন হয়, সেদিন জনতার স্নায়ুতে এমন চাপ পড়ে যে তার প্রতিফলন পথেঘাটেই দেখা যায়। খেলাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক জীবনেও দ্বন্দ্ব বেধে যায়। আমাদের এখানেও আবাহনী-মোহামেডানকে কেন্দ্র করে পরিবার, সংগঠন, ব্যক্তি বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আমাদের ফুটবল টিম ও খেলোয়াড়েরা দেশ-বিদেশে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। খেলোয়াড়দের সম্মানীও বেড়ে গিয়েছিল। বয়সের একটা পর্যায় পর্যন্ত প্রভূত অর্থের মালিক হয়েছিল। খেলোয়াড় ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও সংগঠক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু কোথা থেকে কী হয়ে গেল। জাতীয় ফুটবল ক্রমাগতভাবেই দুর্বল হয়ে পড়ল।


ফুটবল জাতীয় রাজনীতিতে স্থান পেয়েছিল। বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অনুসারী ফুটবল দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। সেই দলগুলোর উত্থান-পতনের সঙ্গে ফুটবলও জড়িয়ে গেল। একটা পর্যায়ে ফুটবল সংকুচিত হয়ে ক্রিকেট সামনে চলে এল। ক্রিকেট অবশ্য বহুদিন ধরেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন দেশগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। যদিও পৃথিবীর একেবারেই কম দেশ ক্রিকেট খেলে থাকে, তার মধ্যে অবিভক্ত ভারতে ক্রিকেট একটা জনপ্রিয় খেলা হিসেবে স্থান করে নিতে পেরেছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও