প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর : গণতন্ত্র না স্বৈরতন্ত্র?
ইংরেজ-শাসিত ভারতে প্রথম ভারতীয় শিক্ষা কমিশন নিযুক্ত হয় বড়লাট রিপন সাহেবের আমলে, ১৮৮২ সালে। সভাপতি উইলিয়াম উইলসন (ডব্লিউ ডব্লিউ) হান্টার (১৮৪০-১৯০০) সাহেবের নামানুসারে এই কমিশন ‘হান্টার কমিশন’ নামেও সমধিক পরিচিত। কমিশনের মূল প্রতিবেদন বা রিপোর্ট এবং গৃহীত কয়েক শত সাক্ষ্যপ্রমাণ দুই বছর পর খণ্ড খণ্ড আকারে প্রকাশ করা হইয়াছিল।
১৮৮৪ সালে ছাপা বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিটির প্রতিবেদনে অন্যান্যের মধ্যে নবাব আবদুল লতিফ খান বাহাদুর (১৮২৮-১৮৯৩) সাহেবের সাক্ষ্যও পাওয়া যায়। প্রকৃত প্রস্তাবে তিনি ছিলেন বাংলাদেশে হান্টার কমিশনের একনম্বর সাক্ষ্যদাতা। আপনকার সাক্ষ্যে আবদুল লতিফ, ১৮৮০-৮১ সালের বঙ্গদেশে জনশিক্ষা বিষয়ক সার্বিক (সরকারি) প্রতিবেদনের দোহাই দিয়া বলিয়াছিলেন, ঐ বছর বাংলা, বিহার আর উড়িষ্যা মিলিয়া মুসলমান জনগণের সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়াইয়াছিল ২১ মিলিয়ন (দুই কোটি দশ লাখ); আর প্রদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মুসলমান ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যা ছিল ১৫৬,০৮১ (এক লাখ ছাপ্পান্ন হাজার একাশি)। নবাব আবদুল লতিফ মন্তব্য করিয়াছিলেন ‘এ প্রপোর্শন হুয়িচ স্পিকস ফর ইটসেল্ফ’ অর্থাৎ অনুপাতটা মানে জনসংখ্যার দুই শত দশজনে মাত্র দেড়জন বা শতে একজনের কম কেন তাহা লইয়া মন্তব্য বাহুল্য বৈ নহে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- প্রাথমিক শিক্ষা