চার কোটি টাকার চলন্ত পদচারী–সেতুটি ব্যবহার হয়েছে ২ মাস, এখন কী অবস্থা
সিঁড়ির বেশ কিছু ধাপ চুরি হয়ে গেছে। যেসব ধাপ অবশিষ্ট রয়েছে সেখানেও লোহার পাত ও রডে মরিচা ধরেছে। কিছু কিছু অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচের টুকরা। অযত্নে-অবহেলায় থাকতে থাকতে সিঁড়িতে জন্ম নিয়েছে আগাছা। প্রবেশ ফটকেও ঝুলছে তালা।
চট্টগ্রাম নগরের প্রথম চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী–সেতুর (এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ) চিত্র এটি। সাড়ে ছয় বছর আগে প্রায় চার কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণ করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের পর প্রায় দুই মাস চালু ছিল চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী–সেতুটি। এরপর অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে একপর্যায়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন কার্যত পরিত্যক্ত এক অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে বিপুল অর্থে নির্মিত সেতুটি।
চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম ব্যস্ত জাকির হোসেন সড়কের ওয়্যারলেস এলাকায় এই চলন্ত পদচারী–সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সড়ক দিয়ে নগরের অভ্যন্তরীণ পরিবহনের পাশাপাশি ঢাকাগামী গাড়িও চলাচল করে। গাড়ির প্রচুর চাপ থাকে সব সময়।
তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আফছারুল আমীনের ইচ্ছায় এই স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানান সিটি করপোরেশনের ওই সময়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সেতু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কাউকে দেখা যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের মতে, যে জায়গায় চলন্ত পদচারী–সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেটি উপযুক্ত জায়গা ছিল না। ফলে লোকজন সেটি ব্যবহার করেননি।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- এস্কেলেটর ফুটওভারব্রিজ