তিন প্রজন্ম ধরে এক ঘরে দুর্বিষহ বসবাস বিহারিদের

জাগো নিউজ ২৪ সৈয়দপুর প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮

‘আবাসনে জমিসহ ঘর পাচ্ছেন গৃহহীনরা। রোহিঙ্গারা দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। করা হয়েছে তাদের সুন্দর থাকার ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। জীর্ণ একটি ঘরে ছেলে-বউ ও তাদের সন্তানদের নিয়ে গাদাগাদি করে বাস করছি। ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কিছুই আর করেন না।’


আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুরে আটকে পড়া অবাঙালি ক্যাম্পের (যারা এদেশে ‘বিহারি’ নামে পরিচিত) বাসিন্দা মেহেরুন নেসা (৭০)।


মেহেরুন নেসার জন্ম ভারতের বিহার রাজ্যে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে জন্ম নেয় পাকিস্তান। সেসময় বিহার থেকে অনেক মুসলমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। তার পরিবারও বাংলাদেশে চলে আসে। সুখে শান্তিতে কাটছিল দিনগুলো। কিন্তু ১৯৭১ সালে শোষণ ও বঞ্চনায় পিষ্ট বাঙালিরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন। তখন মেহেরুন নেসার স্বামী সোলায়মান মাস্টার সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানে চলে যাবেন। তাই স্থাবর-অস্থাবর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে আশ্রয় নেন পাকিস্তানি শিবিরে। অনেকে গেলেও তাদের আর যাওয়া হয়নি। থেকে গেলেন আটকে পড়া পাকিস্তানি ক্যাম্পে।


সৈয়দপুরে আটকে পড়া অবাঙালি ক্যাম্প রয়েছে ২২টি। এসব ক্যাম্পে ৪ হাজার ৫৩০টি পরিবারের ১৯ হাজার ৬৯৭ জন বিহারির বসবাস। মেহেরুন নেসার মতো অসংখ্য পরিবার জরাজীর্ণ ৮ ফুট বাই ৮ ফুট একটি ঘরে তিন প্রজন্ম নিয়ে গাদাগাদি করে বাস করছেন। বাব-মা ঘুমান খাটে, ছেলে-বউ মাটিতে আর বৃদ্ধরা ওই ঘরের বারান্দাতেই রাত যাপন করে জীবন পার করছেন। জীবনের তাগিদে কেউ নরসুন্দর, কসাই, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, অটোমোবাইল মেকানিকের কাজ করছেন। অনেকে আবার অপরাধ কর্মকাণ্ডেও জড়িয়েছেন। মহিলারা জরি-কারচুপির আবার কেউ ঝিয়ের কাজ করেন। এদের শিশুদেরও তাড়াতাড়ি কাজে যোগ দিতে হয়। কারণ সন্তানদের শিক্ষিত করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও