বিদেশি বিনিয়োগের ‘আশায় গুড়েবালি’ ও গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি

বিডি নিউজ ২৪ কামরান রেজা চৌধুরী প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ২১:২৭

বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ১৮ জুন এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার নিয়োগের সময় ছড়ানো আশার ফুলঝুরিতে গুড়েবালি ঢেলে দেওয়ার মতো হয়েছে। তিনি বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান এখন আর বিদেশি নয়, দেশিয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে তার যুক্তি হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে বিনিয়োগের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এ কারণে তারা গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ওপর বেশি ফোকাস না করে, দেশিয় বিনিয়োগকারীদের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং দেশের বাইরের চেয়ে ভেতরের সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।


অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়; মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আশিক চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত এই চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়েই বিস্তর ঢাকঢোল পেটানো হয়েছিল। সেই সময় বিনিয়োগ সম্মেলন করে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছিল যে, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে যাচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক রোডশো, চীন-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-কাতার সফর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সংস্কার, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন—সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন আর খরচেরও কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগ এসেছে যৎসামান্য।


ইউনূস সরকারের বিদায়ের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আশিক চৌধুরী ওই পদে বহাল রয়েছেন। হয়তো কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার বিবেচনায় তাকে ওই পদে বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন যখন তিনি নিজেই বিদেশি বিনিয়োগের আশা ছেড়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অজুহাতে দেশিয় বিনিয়োগের দিকে মুখ ফেরানোর কথা বলছেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় আমাদের সবুরের মেওয়া মাকাল ফলে পরিণত হতে যাচ্ছে।


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার স্থবিরতা দেখতে দেখতে দেশের মানুষের মনে আশার জন্ম হয়েছিল যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে এবং এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে। কিন্তু আশিক চৌধুরীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই আশায় বড় একটি ধাক্কা দিল।


দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত অর্থায়ন, বাড়তি কর, জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশে বিনিয়োগের চিরচেনা কিছু সমস্যা। তবে এর বাইরে সম্পূর্ণ নতুন একটি সংকট এখন বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটি হলো—৫ অগাস্ট-পরবর্তী ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতা।


জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আওয়ামীপন্থিদের কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের যে সব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উপরন্তু, প্রতিযোগী ও অবন্ধুসুলভ রাষ্ট্রগুলো এই সমস্ত ধ্বংসাত্মক চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বন্ধের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।


আসলে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ কেমন, কোথায় ঝুঁকি বেশি আর কোথায় তাদের পুঁজি নিরাপদ—এসব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের চিরাচরিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা তাদেরকে মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।


গত ২২ জুন জাপানের একটি শীর্ষ থিঙ্কট্যাঙ্কে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেভাবে রূপগঞ্জের গাজী টায়ার কারখানায় দল বেঁধে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা দেখে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এখনও জাপানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলে ‘গাজী টায়ার ট্র্যাজেডি’র উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। কোনো জাতি কতটা নির্বোধ ও আত্মঘাতী হলে নিজেদের দেশের এমন সচল কর্মসংস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে ধ্বংস করতে পারে। এই একটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও