কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ঝুঁকি এবং করণীয়

যুগান্তর ড. শাহ জে মিয়া প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৪২

বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এখন যে কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যৎ পৃথিবী দেখবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে অনেক কষ্টসাধ্য বা অসাধ্য কাজ সম্পাদন করা যায়; তা-ও আবার অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে। এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এ প্রযুক্তিটি যত দ্রুত আসছে, সেটির নিয়ন্ত্রণ বা যথোপযোগী ব্যবস্থাপনা তত দ্রুত তৈরি হচ্ছে না। ফলে নতুন নতুন সাইবার হুমকি তৈরি হচ্ছে, অথচ এসব ঠেকানোর মতো যথেষ্ট আইন আমাদের নেই, যা সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেছেন। আর এআই তৈরি করা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং ফেক নিউজসংক্রান্ত হুমকি সামলানোর জন্য আলাদা কোনো সামাজিক সচেতনতার উদ্যোগ এবং এর থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থাপনাও এখন সময়ের দাবি। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ২০২৪ সালের একটি গবেষণার মতে, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে এআই-এর মতো প্রযুক্তি দিয়ে ব্যাপক নজরদারি বা সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।


ফেক নিউজ সম্পর্কিত এআই ব্যবহারের ঝুঁকির মধ্যে আমরা বলতে পারি, আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া প্রতারণামূলক বার্তা সহজেই ধরা যেত, কারণ সেগুলোর ভাষা ছিল আড়ষ্ট বা ভুলে ভরা। কিন্তু এখন জেনারেটিভ এআই (ChatGPT, gemini বা grok) ব্যবহার করে নিখুঁত বাংলায় বিশ্বাসযোগ্য ফেক নিউজ তৈরি করতে পারে। ফলে ভুয়া বার্তা আর সহজে চেনা যায় না। প্রতারকরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূলত তিনভাবে ক্ষতি করছে। প্রথমত, তারা সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে বার্তা সাজিয়ে গণমানুষের আস্থার জায়গাটায় আঘাত করছে। দ্বিতীয়ত, কৌশলে প্রশ্ন সাজিয়ে এআই’র নিরাপত্তা বেড়া ফাঁকি দিয়ে উগ্রবাদী বা স্বৈরাচারী বক্তব্য তৈরি করিয়ে নিচ্ছে। তৃতীয়ত, ফেক নিউজ তৈরি থেকে শুরু করে অনুবাদ, ছড়ানো ও বড় করে তোলা, পুরো কাজটাই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করিয়ে নিচ্ছে, যার লক্ষ্য মানুষকে উগ্র করে তোলা বা আর্থিক প্রতারণা করা।


এআই প্রযুক্তি দিয়ে এখন নিখুঁত, পেশাদার ভাষায় ইমেইল তৈরি করা যায়, ফলে ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা এখন সহজ হয়ে গেছে। দেশের ব্যাংকগুলো ও পোশাক রপ্তানি খাত এ ধরনের হামলার বড় লক্ষ্য হতে পারে, কারণ এখানে নিয়মিত বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক লেনদেন হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাইবার হামলার মাধ্যমে বিপুল অর্থ চুরির ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের আর্থিক খাত অপরাধীদের কাছে কতটা আকর্ষণীয় লক্ষ্য (সেই হামলাটি এআইচালিত ছিল না, তবে এটি দেখায় অপরাধীরা কোথায় নজর দেয়)।


সম্ভবত এআই উদ্ভূত সবচেয়ে গভীর পরিবর্তনটি হলো বর্তমান সময়ে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু প্রযুক্তি থেকে সরে গিয়ে মানুষের আস্থা ও বিচারবুদ্ধির দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করতে গুজব ও বিকৃত তথ্য বহুদিন ধরে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে সচেতনতা, যাচাইয়ের অভ্যাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংশয়বোধকে সাইবার প্রতিরক্ষার অপরিহার্য উপাদান হিসাবে গ্রহণ করা জরুরি। কার্নেগি গবেষণায় উল্লিখিত হয়েছে, এআই রাষ্ট্রীয় শক্তিকে খারাপভাবে পরিচালিত করতে পারে, যেখানে প্রোপাগান্ডাই মূল হাতিয়ার। এর পরিণতি গণতান্ত্রিক সংহতির ক্রমাগত ক্ষয়, কারণ রাষ্ট্রের নাগরিক বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বিশেষভাবে প্রকৌশলিত কৃত্রিম কনটেন্টের মধ্যে বিতর্কে ডুবে থাকে। বাংলাদেশে নারী রাজনীতিক ও পরিচিত নারীরা এ হামলার সবচেয়ে বড় শিকার হন। কার্নেগির গবেষণা বলছে, নারীদের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার মূলত তিনভাবে হয়। প্রথমত, সম্মতি ছাড়াই এআই দিয়ে নারীদের আপত্তিকর ছবি বানিয়ে তাদের জনসমক্ষে কথা বলা থেকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। দ্বিতীয়ত, সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে নারীনেত্রীদের সম্মান নষ্ট করা হয়। তৃতীয়ত, সংঘবদ্ধ অনলাইন হয়রানির মাধ্যমে মানসিক চাপ তৈরি করে নারীদের নেতৃত্বের ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক যোগ্য নারী জনজীবন থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।


সাধারণ এআই প্রযুক্তির অ্যাপে নিরাপত্তা বেড়া থাকে, যা ক্ষতিকর কাজ আটকায়। কিন্তু অপরাধীরা এখন নিরাপত্তা বেড়া তুলে নেওয়া বিশেষ এআই টুল ব্যবহার করছে, যেগুলো বিনা বাধায় ফিশিং বার্তা ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার লিখে দেয়। এর ফলে অল্প দক্ষতার অপরাধীও এখন সহজে বড় হামলা চালাতে পারছে, আগে যা করতে অনেক প্রযুক্তিগত জ্ঞান লাগত। এআই প্রযুক্তি দিয়ে এমন ম্যালওয়্যারও বানানো যায়, যা বারবার নিজের রূপ বদলে অ্যান্টিভাইরাসের চোখ ফাঁকি দিতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও