ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সম্ভাবনার বাজার, প্রস্তুতির ঘাটতি

জাগো নিউজ ২৪ গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৮

বাংলাদেশের কৃষির সফলতা এখন আর গল্প নয়, বাস্তব। ফলমূলভর্তি জীবন্ত এক বাস্কেট। একবিংশ শতাব্দীতে অভূতপূর্ব অর্জন দেশের অবস্থানকে বিশ্বের কাছে করেছে সুসংহত। ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনকে কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন কৃষিবিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী এবং কৃষি উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।


দেশে বর্তমানে ১৬০ ধরনেরও অধিক ফল ও সবজি সারা বছর উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ প্রকার ফল পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থ উপার্জন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অবদান রেখে চলেছে। যদিও ফলের রপ্তানি বৃদ্ধিতে আশানুরূপ অর্জন এখনও সম্ভব হয়নি। কোল্ড চেইন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি হয়নি। তবে উৎপাদনের দিক থেকে আমে সপ্তম, কাঁঠালে দ্বিতীয়, পেয়ারায় অষ্টম, পেঁপেতে ১৪তম এবং সার্বিকভাবে বিশ্বে ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।


বেশিরভাগ ফলের উৎপাদন মৌসুম মে মাস থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু ভরা মৌসুমে একসঙ্গে বাজারে বিপুল পরিমাণ ফল আসায় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে উৎপাদিত ফলের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি।


সতেজ অবস্থায় কোল্ড চেইন লজিস্টিকস অনুসরণ করে পরিবহন ও স্থানান্তরের সীমাবদ্ধতা, আকাশপথে কার্গো খরচ বেশি হওয়া, উপযুক্ত প্রযুক্তির স্বল্পতা, উত্তম কৃষি চর্চার সীমিত প্রয়োগ, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স এবং কমপ্লায়েন্সভিত্তিক প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে রপ্তানিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এরপরও বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশে ফল রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে হালাল ও স্ন্যাকসজাতীয় ফলভিত্তিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।


২০২৩ সালে তাজা ফল রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৪.৯ মেট্রিক টন, যেখানে ২০১৪ সালে তা ছিল ২৩৯.১৯ মেট্রিক টন। একইভাবে ২০২৫ সালে প্রক্রিয়াজাত ও হিমায়িত ফলের বাজারের আকার ছিল ৯.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে ১৪.৭৪ শতাংশ।


ফলের প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মধ্যে ডিহাইড্রেটেড পণ্য অন্যতম। আম, কলা, পেঁপে, আনারস, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের ড্রাইড পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন থেকে এসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। অথচ দেশে উৎপাদন করা গেলে যেমন আমদানি কমবে, তেমনি রপ্তানিরও ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে।


বর্তমানে ইউরোপে ২৯.৫ শতাংশ, এশিয়া-প্যাসিফিকে ৩৫.৫ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশে ১৫ শতাংশ ড্রাইড পণ্যের বাজার রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, আলিবাবা প্ল্যাটফর্মে ২৭.৬৭ শতাংশ ক্রেতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ড্রাইড পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আশার সঞ্চার করেছে। শুধু ড্রাইড আমের চাহিদাই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে বুরকিনা ফাসো থেকে ৪ হাজার টন ড্রাইড আম এবং ঘানা থেকে ২ হাজার ৫০০ টন ড্রাইড আনারস ও আম ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও