রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাজনীতির কালিমা

www.ajkerpatrika.com জাহীদ রেজা নূর প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩

আজ বেদনাবিধুর ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সপরিবারে তিনি নিহত হয়েছিলেন। বিদেশে ছিলেন বলে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। যদিও বলা হয়ে থাকে, কয়েকজন বিপথগামী সেনাসদস্য হত্যা করেছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি আর কারা যুক্ত ছিল, তা নিয়ে বহুদিন আরও গবেষণা হবে। কারণ, বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।


গতকাল আমরা চারজন রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ধারাবাহিকভাবে এগোলে এরপর সালভাদর আয়েন্দের কথাই আসে। কিন্তু আজকের এই দিনটিতে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া সেই মর্মন্তুদ ঘটনাটির মধ্যেই। পরে অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করব।

কে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের নির্মোহ ইতিহাস কীভাবে তাঁর মূল্যায়ন করে, সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েবলসীয় ধারায় কখনো কখনো বারবার মিথ্যে কথা বলে তা সত্য হিসেবে কিছু সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত করা যায় বটে, কিন্তু শেষ বিচারে সেই মিথ্যা ধোপে টেকে না। নইলে হিটলারের জার্মানি যে প্রচণ্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে নীল রক্তের আরাধনা করেছিল, সেটাই টিকে যেত। সময়ের পরিবর্তনে সত্য ও ন্যায় ফিরে আসে তার নির্দিষ্ট জায়গায়।

১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের বিশাল ক্যানভাসে আঁকা বাংলাদেশের ছবিটি উজ্জ্বল করে তোলার পেছনে তিনিই ছিলেন মূল কারিগর। এই সত্যকে গোয়েবলসীয় ধারায় ম্লান করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কখনো কখনো কেউ কেউ শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করার অভিপ্রায়ে নানা প্রশ্ন এনে হাজির করেন। ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত এতটাই মজবুত যে, সেসব অসার তথ্য দিয়ে তাঁকে নস্যাৎ করা যায় না।


২. বিভিন্নজনের কথা থেকে আমরা শেখ মুজিবকে বোঝার চেষ্টা করব। কোন মানুষটাকে হত্যা করেছিল নৃশংস বর্বররা, সেটা এই আলোচনা থেকে বোঝা যাবে। প্রথমেই আহমদ ছফার মূল্যায়ন। আহমদ ছফাকে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রুও বঙ্গবন্ধুপ্রেমী বলবেন না। বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি ইতিহাস বিচার করেছেন। সেই বিচারে শেখ মুজিব বা আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা আছে। তবে ইতিহাসে শেখ মুজিব চরিত্রটির ব্যাপারে ছফা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং শেখ মুজিবুর রহমান একটি যমজ শব্দ। একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটার অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। যারা এই সত্য অস্বীকার করবে, তাদের সঙ্গে কোনো রকমের বিতর্ক, বাদ-প্রতিবাদ করতেও আমরা রাজি হব না।’


ভুল শোনেননি। এটা আহমদ ছফারই কথা। আরও একটু শুনুন, নইলে এই কথার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বোঝা কঠিন হবে। ছফা আরও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে শেখ মুজিবের নাম এমন অচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে, যত পণ্ডিত হোন না কেন, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের নিপুণতা এবং যুক্তির মারপ্যাঁচ দেখিয়ে কোনো ব্যক্তি একটা থেকে আর একটাকে পৃথক করতে পারবেন না।’


এটুকু বলার পর ছফা বিষয়টির গভীরতা মাপার চেষ্টা করেন এইভাবে, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকাকে স্বাধীনতাসংগ্রামের সময়কালীন অন্য দশটা রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সঙ্গে অবশ্যই তুলনামূলক মানদণ্ড প্রয়োগ করে বিচার করতে হবে। বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের চাইতে প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক নেতা হয়তো ছিলেন, তার চাইতে মেধাবী রাজনৈতিক নেতারও হয়তো অভাব ছিল না, জাতির সবচেয়ে নির্যাতিত অংশের সংগ্রামে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো নেতাও এ দেশে ছিলেন না, এই কথা বললে সত্য বলা হবে না।


‘কিন্তু একটি জাতি অন্তস্থ সত্তা, প্রাণ-পাতালের উত্তাপে আত্মপরিচয় অনুসন্ধান করার তাগিদে বাংলার ইতিহাসের স্মরণকালের সবচাইতে মহত্তম ও ব্যাপক জনযুদ্ধটিতে যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তার বেগ আবেগ সবটুকু ধারণ করেছিলেন শেখ মুজিব, আর কেউ নন।’


অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ সালাহউদ্দীন আহমদ লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো, তিনি আমাদের বাঙালি জাতিসত্তাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই প্রক্রিয়া হঠাৎ করে হয়নি। বাঙালির দীর্ঘদিনের আত্মানুসন্ধান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের অমোঘ পরিণতি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। আজ এ কথা ভেবে বিস্মিত হই যে এই ভূখণ্ড যেটি পাকিস্তান সৃষ্টির পর ‘পূর্ব বাংলা’ এবং ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে পরিচিত ছিল, সেটিকে ‘বাংলাদেশ’ বলে ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই জাঁদরেল পাকিস্তানি সমরনায়কদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও