যে জন্মদিন অশ্রুসিক্ত স্মৃতিরঞ্জন

কালের কণ্ঠ সাঈদ খান প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৮

ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১৫ আগস্ট। দিনটি যেন জন্মদিনের স্মৃতি আর চিরবিদায়ের বেদনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কিন্তু এই দিনটি আর আগের বছরের মতো নয়। কারণ এই প্রথম কোনো জন্মদিনে তিনি নেই, নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা, নেই কেক কাটার আনন্দ, নেই ফুলের বন্যা। আছে শুধু স্মৃতি, আছে গভীর ভালোবাসা, আছে অশ্রুসিক্ত নীরবতা। তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজ মা-হারানোর অপার কষ্ট, যে বেদনা তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাঝেও একাকী বয়ে চলেছেন।


জনগণের সেবার মাধ্যমেই খুঁজে চলেছেন তাঁর মায়ের আদর্শের প্রতিফলন। সঙ্গে বাবা হারানোর বেদনা তো রয়েছেই—১৯৮১ সালের ৩০ মে যখন শহীদ হন জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান তখন মাত্র ১৬ বছরের কিশোর।


প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পতাকায়, প্রতিটি নিপীড়িত মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও বিদ্যমান। যিনি স্বৈরাচারের দুর্গ কাঁপিয়েছেন, যিনি কারাগারের স্যাঁতসেঁতে প্রকোষ্ঠকেও সংগ্রামের প্রেক্ষাগৃহে পরিণত করেছেন, যিনি সন্তান হারিয়েও কখনো নীতি থেকে বিচ্যুত হননি, তাঁরই এই জন্মদিন আজ এক জাতির মনঃকষ্টের প্রতীক।


বাংলার ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব কাহিনি। এক সাধারণ গৃহবধূর অসাধারণ রাজনৈতিক উত্থানের মহাকাব্য। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের মাটিতে যখন ‘পুতুল’ নামের সেই কন্যাসন্তানটির আবির্ভাব ঘটেছিল, তখন কে জানত এই শিশুটিই একদিন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়াবে? কে জানত তিনি একদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লৌহমানবী হয়ে উঠবেন? কে জানত তিনিই হবেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান? সময় যেন তাঁকে ডেকে এনেছিল ইতিহাসের এক অমোঘ প্রয়োজনে।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে সেনানিবাসে বন্দি করে রেখেছিল, তখনো তিনি দুই পুত্রকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। আর আজ সেই দুই সন্তানের একজন চিরবিদায় নিয়েছেন ২০১৫ সালে।


আর বড় ছেলে তারেক রহমান হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। মায়ের রোগশয্যার পাশে সব সময় তিনি ছিলেন না—এই বেদনা আজ তাঁর প্রাণে বিষের মতো লাগে। তিনি জানেন, মা কখনো তাঁকে ছেড়ে যেতে চাননি, কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম মেনে নিতেই হয়েছে।


১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে চট্টগ্রামের সেনানিবাসে সেনা সদস্যদের গুলিতে শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাত্র ২১ বছরের দাম্পত্যজীবনের অবসান ঘটে, খালেদা জিয়া অকালবৈধব্য বরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর বিএনপি নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। দলের ভেতরে শুরু হয় কোন্দল, ছেঁড়াছিঁড়ি। নেতাকর্মীরা তখন ভাবতে শুরু করেন, এই দলকে টিকিয়ে রাখার মতো একজন নেতার প্রয়োজন, আর সেই মানুষটি হলেন খালেদা জিয়া।


১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দিন। খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করলেন। সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি হয়ে উঠলেন রাজনীতির নবীন যোদ্ধা। সেই দিনও কেউ জানত না, এই নারীই একদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের অগ্রদূত হবেন। তিনি কিন্তু কোনো অনুগ্রহে শীর্ষ পদ পাননি। তিনি ধাপে ধাপে দলীয় নিময়-নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে সামনে এগিয়েছেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস চেয়ারপারসন, পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিকজীবনের ৪১ বছরই তিনি দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি একটি বিরল ও ঐতিহাসিক রেকর্ড।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও