নামকরণের পুরোনো রোগ এবং প্রতিমন্ত্রীর ‘মিরাকল’ তথ্য

বিডি নিউজ ২৪ অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রভাব আর তদ্বিরের ভিত্তিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া—এগুলো আমাদের নিত্যদিনের আলোচনার খোরাক। সরকারে যে-ই আসুক না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যখন নির্দিষ্ট কোনো জেলা, পরিবার এবং বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর অতিরিক্ত প্রভাব চোখে পড়ে, তখন বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে শুধু প্রশাসনের নিরপেক্ষতাই নষ্ট হয় না, সাধারণ মানুষের আস্থাও বিপন্ন হয়। আমাদের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ক্ষমতায় বসার পর দলগুলো নিজেদের অজান্তেই এমন একটা পরিবেশ তৈরি করে ফেলে, যেখানে সাধারণ মানুষের মনে হয়—যোগ্যতা থাকলেও রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা, ভালো পদে চাকরি ও পদোন্নতি সবার ভাগ্যে জোটে না। আর জনগণের মনে যখন এই বৈষম্যের ক্ষোভ একবার দানা বাঁধে, তখন তার চড়া রাজনৈতিক মূল্য কিন্তু দিনশেষে সেই সরকার আর শাসক দলকেই চোকাতে হয়।


বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গোপালগঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে, দলীয় কাঠামোতে, এমনকি চাকরিজীবী মহলেও গোপালগঞ্জের ব্যক্তিদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সমর্থকরা একে রাজনৈতিক আস্থা ও নেতৃত্বের স্বাভাবিক ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সমালোচকদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ঘিরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং ক্ষমতার বলয়ে সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর আধিপত্য দল ও সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠেছিল। কারণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ সবকিছু দেখেন নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে। কোনো ব্যাখ্যা যত শক্তিশালীই হোক, মানুষের মধ্যে যদি বৈষম্যের ধারণা জন্ম নেয়, তবে তা একসময় রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।


বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও একই ধরনের আলোচনা নতুন করে সামনে আসছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বগুড়া। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। শিক্ষা খাত থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কথা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার নির্বাচনি এলাকা শিবগঞ্জ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ।


ঘটনার সূত্রপাত প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে। বগুড়া-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে মোকামতলা নামে নতুন একটি উপজেলা গঠন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম। সরকারি গেজেটে এসব নাম প্রকাশের পরপরই এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, মীরবাড়ি নামটি প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সীমান্ত ও দিগন্ত নাম দুটি তার দুই সন্তানের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।


বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে; তবে ওই আলোচনায় আসেনি যে প্রতিমন্ত্রীর এক ভাতিজির নাম ‘স্বর্ণালী’, আর নতুন চারটি ইউনিয়নের আরেকটির নাম ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে নামকরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশ, স্থানীয় মতামত এবং গণশুনানির ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে কোনো নির্দেশনা দেননি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য এসেছে। বলা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল।


তবে প্রশাসনিক ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। কারণ জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে, যদি নামগুলো সত্যিই কাকতালীয় হয়, তাহলে সেই কাকতালীয় ঘটনাও কেন এত আলোচনার জন্ম দিল? এর উত্তর খুঁজতে গেলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীরে যেতে হয়। বাংলাদেশের মানুষ বিগত কয়েক দশকে দেখেছে, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের নামে সড়ক, সেতু, প্রতিষ্ঠান, ভবন কিংবা বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ নিয়ে কত বিতর্ক হয়েছে। ফলে নতুন কোনো ঘটনার সঙ্গে যদি ক্ষমতাসীন কোনো ব্যক্তির পরিবারের নামের মিল পাওয়া যায়, তাহলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও