প্রেস সচিব কাফি খানের স্মৃতিচারণা: কেমন ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া
আমার চোখে তিনি একজন গ্রেট স্টেটসম্যান। অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব। সততায় তিনি নজিরবিহীন। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সৎ মানুষ। আমার ৮২ বছরের জীবনে এমন সৎ মানুষের সাক্ষাৎ কখনো পাইনি। তাঁকে নির্দ্বিধায় বলব, ওয়ার্কহোলিক বা কাজপাগল একজন মানুষ ছিলেন। বছরের ৩৬৫ দিনই তিনি কাজ করতেন। রাতে চার ঘণ্টার বেশি ঘুমোতেন না। তাঁর অনেক কাজই ছিল অসাধারণ। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করা তাঁর একটি অসাধারণ কাজের উদাহরণ।
হ্যাঁ, আমি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা বলছি।
জিয়াউর রহমানের প্রেস সচিব কাফি খান এভাবেই আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জিয়ার প্রেস সচিব ছিলেন তিনি। এই চার বছর তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছেন। তাঁকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। দেখেছেন তাঁর কাজ। বললেন, জিয়াউর রহমান অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। এমন একজন মানুষ, যাঁর কাছে গেলে মনে হয়, তিনি খুব কাছের মানুষ। আবার এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, একেবারে কাছে যেতেও ভয় ভয় হয়। বয়স যতই হোক। ওই সময় তাঁর বয়স আর কতই–বা ছিল—৪১ বছর। তাঁর দিকে উঁচুদৃষ্টিতেই তাকাতে হতো।
আমার কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, তাঁর যে গুণাবলি আমি দেখেছি, এককথায় অতুলনীয়! তাঁর কাজগুলো এখনো আমার চোখে ভাসে। প্রকৃতই দেশপ্রেমিক একজন মানুষ ছিলেন তিনি। দেশকে ভালোবাসা, দেশের জন্য কাজ করা, স্বজনপ্রীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া, মানুষকে আপন করে নেওয়া, দিনরাত কাজ করা, সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করা, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করা, দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা—এসব গুণ তখন আমাকে মুগ্ধই করেনি, মনে হয়েছে বাংলাদেশে তাঁর মতো যদি এমন আরও কয়েকজন মানুষ পাওয়া যেত, তাহলে দেশের চেহারাটাই পাল্টে দেওয়া যেত।
কাফি খান একজন প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু বছর তিনি ভয়েস অব আমেরিকায় (ভিওএ) কাজ করেছেন, খবর পড়েছেন। দেশের রেডিও-টেলিভিশনেও খবর পড়ার ক্ষেত্রে তিনি পরিচিত মুখ ও কণ্ঠ ছিলেন। ‘সূর্যকন্যা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছেন। বহুমুখী প্রতিভার সুদর্শন এই মানুষ লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। নিজের একটি অ্যাডভারটাইজিং ফার্মও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগপর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে ওয়াশিংটনে থাকতেন।
২০১১ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। খবর পেয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তখন আমার ‘কিংবদন্তির জিয়া’ বইয়ের জন্য একটি সাক্ষাৎকার চাইলে কাফি খান সানন্দে রাজি হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি খুব খুশি হন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- স্মৃতিচারণা
- জিয়াউর রহমান