ঈদযাত্রা যেন শেষযাত্রা না হয়

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১২:২০

ঈদের আগে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি চলছিল। হয়তো কারও ব্যাগে ছিল সন্তানের জন্য কেনা নতুন জামা, কারও হাতে মায়ের জন্য শাড়ি, কারও মনে ছিল কোরবানির ঈদে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ। অনেক দিনের অপেক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সেই পথই শেষ পর্যন্ত কারও কারও জন্য হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা।


টাঙ্গাইলে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জনের প্রাণহানির খবর শুধু একটি দুর্ঘটনার সংবাদ নয়; এটি অসংখ্য পরিবারের ঈদকে শোকে ডুবিয়ে দেওয়ার গল্প। যে মানুষগুলো হয়তো কয়েক ঘণ্টা পর বাড়ির উঠানে পা রাখতেন, প্রিয়জনের মুখ দেখতেন, তাদের কেউই আর ফিরলেন না। বাড়িতে অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলো হয়তো ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন—‘কোথায় পৌঁছালে?’—কিন্তু সেই ফোন আর ধরেনি কেউ। ঈদের আনন্দের অপেক্ষা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কান্নায়।


এই মৃত্যুগুলো আমাদের ব্যথিত করে শুধু প্রাণহানির সংখ্যা হিসেবে নয়, বরং এই কারণে যে এগুলো অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। রডভর্তি ট্রাক তো যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়। সেখানে মানুষ উঠল কীভাবে? কেন উঠল? পথে কেউ দেখল না? কেউ থামাল না? দুর্ঘটনার পর আমরা শোক জানাই, তদন্তের কথা বলি, দায় খুঁজি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়—এমন মৃত্যু কি এড়ানো যেত না?


ঈদযাত্রা আমাদের দেশে কেবল ভ্রমণ নয়, এটি আবেগের নাম। বছরের পর বছর শহরে পরিশ্রম করে মানুষ এই সময়টুকুর জন্য অপেক্ষা করে। সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরা, বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে ঈদের সকাল কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা—এসবই ঈদের গভীর সামাজিক আনন্দের অংশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই ঘরে ফেরা যেন প্রতি বছরই এক অনিশ্চয়তার সঙ্গে শুরু হয়। আনন্দের পাশাপাশি থাকে ভয়—রাস্তা কেমন থাকবে, গাড়ি পাওয়া যাবে কি না, যানজটে আটকে পড়তে হবে কি না, নিরাপদে পৌঁছানো যাবে তো?


দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে ঈদযাত্রা যেন বহু বছর ধরেই আনন্দের পাশাপাশি এক অদৃশ্য শঙ্কারও নাম। এছাড়া ঈদযাত্রা শুরু হলেই আমাদের সামনে এক পরিচিত দৃশ্য ফিরে আসে—মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন, টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, অতিরিক্ত ভাড়া, ফেরিঘাটে চাপ, ট্রেনের ছাদে যাত্রী, আর খবরের পাতায় একের পর এক দুর্ঘটনার সংবাদ। বছর ঘুরে ঈদ আসে, কিন্তু এই চিত্র খুব বেশি বদলায় না। প্রতি বছর মানুষের প্রত্যাশা থাকে—এবার হয়তো যাত্রাটা একটু স্বস্তির হবে। কিন্তু যাত্রাপথের বাস্তবতা অনেক সময় সেই আশাকে ম্লান করে দেয়।


এবারও ২৫ মে ছুটির প্রথম দিনেই ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে যানজটের খবর এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে চাপ বেড়েছে। সামনে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক পুরোপুরি নামলে গাবতলী ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘরমুখো মানুষের চাপ আর পশুবাহী যানবাহনের বাড়তি প্রবাহ মিলিয়ে ঈদের আগের কয়েকটি দিন সাধারণত সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। ফলে স্বস্তির ঈদযাত্রা নিয়ে মানুষের আশার সঙ্গে শঙ্কাও সমানতালে হাটে।


বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন ধীরে ধীরে এক নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। ঈদের সময় তা আরও দৃশ্যমান হয়। কারণ এই সময় লাখো মানুষ একই সঙ্গে রাস্তায় নামে। পরিবহনের ওপর চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই চাপ সামলাতে গিয়ে কোথাও নিয়ম শিথিল হয়, কোথাও তদারকি দুর্বল হয়, কোথাও বাড়তি মুনাফার লোভে নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়। আর এই ফাঁকেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও