You have reached your daily news limit

Please log in to continue


আমাদের মানসিক উচ্চতা কি বাড়বে?

বাংলাদেশ এখন যেন এক অদ্ভুত ঋতুর ভেতর দিয়ে অতিক্রম করছে। বাইরে রোদ আছে, ভেতরে কুয়াশা। শহরে আলো আছে, কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কে অন্ধকার। চারদিকে এত শব্দ, এত বক্তৃতা, এত মতামত, এত প্রতিক্রিয়া; তবু মনে হয়, গভীর চিন্তার জায়গাগুলো ক্রমশ জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে। যেন সভ্যতার কেন্দ্রস্থলে বসে আমরা ধীরে ধীরে বর্বরতার দিকে হাঁটছি, আর হাঁটতে হাঁটতে নিজেদেরই আধুনিক বলে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

এই সমাজে এখন মানুষ আগের চেয়ে বেশি কথা বলে, কিন্তু কম চিন্তা করে। বেশি দেখে, কিন্তু কম উপলব্ধি করে। বেশি জানে, কিন্তু কম বোঝে। তথ্যের বিস্ফোরণ ঘটেছে, অথচ প্রজ্ঞার দুর্ভিক্ষ নেমেছে। যেন পৃথিবীর সমস্ত শব্দ এসে জমা হয়েছে এই ভূখণ্ডে, কিন্তু একটি নির্মল বাক্য জন্ম নেওয়ার মতো নীরবতা আর অবশিষ্ট নেই।

সভ্যতার ইতিহাসে রুচির মৃত্যু কখনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি ধীরে ধীরে ঘটে। যেমন একটি নদী একদিনে মরে না; প্রথমে তার জল কমে, তারপর স্রোত স্তিমিত হয়, তারপর কচুরিপানা জমে, তারপর একদিন দেখা যায়, নদীর বুকের উপর মানুষ হেঁটে যাচ্ছে। সংস্কৃতির মৃত্যুও তেমন। প্রথমে মানুষ গভীর সাহিত্য পড়া বন্ধ করে। তারপর কঠিন চিন্তাকে ভয় পেতে শুরু করে। তারপর শিল্পকে কেবল বিনোদন ভাবে। তারপর একসময় এসে এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন সমাজ আর উৎকর্ষ চিনতেই পারে না। বাংলাদেশ আজ সেই বিপজ্জনক পর্যায়ের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

একসময় এই ভূখণ্ডে বই ছিল আত্মার আশ্রয়। মফস্বলের লাইব্রেরিগুলোয় সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলত, তরুণেরা কবিতা নিয়ে তর্ক করত, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে দর্শন নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হতো, নাটকের দল রাতভর মহড়া দিত, গানের আসরে মানুষ চোখ বন্ধ করে শুনত। এখনো এসব পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, কিন্তু তাদের চারপাশে এমন এক কোলাহল তৈরি হয়েছে, যেখানে গভীরতা টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কারণ সমাজের রুচি কখনো স্থির থাকে না; এটি পরিবেশের সঙ্গে বদলায়।

মানুষের মানসিক ভূগোলও প্রকৃতির মতোই বিবর্তিত হয়। যে সমাজে জ্ঞানের জন্য সামাজিক সম্মান থাকে, সেখানে চিন্তাবিদ জন্মায়। যে সমাজে শিল্পকে প্রয়োজন মনে করা হয়, সেখানে শিল্পী টিকে থাকে। আর যে সমাজে জনপ্রিয়তাই একমাত্র মুদ্রা হয়ে ওঠে, সেখানে প্রতিভা ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করে।

বাংলাদেশে এখন সেই আত্মহত্যা নীরবে চলছে। এখানে প্রতিভাবান মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে না; তারা নিজেদের ছোট করে ফেলছে। তারা বুঝে গেছে, গভীরতা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন। ফলে তারা নিজেদের ভাষা সরল করছে, চিন্তা হালকা করছে, বক্তব্যকে বিনোদনে পরিণত করছে। কারণ এই সমাজ দীর্ঘ মনোযোগ চায় না। এখানে মানুষ একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ পড়তে ভয় পায়, কিন্তু তিন ঘণ্টার রাজনৈতিক চিৎকার শুনতে ক্লান্ত হয় না। এখানে বইয়ের দোকানে ভিড় কমে, কিন্তু তুচ্ছ উত্তেজনার ভিডিও কোটি মানুষ দেখে। এখানে একজন গবেষকের নাম কেউ জানে না, কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে নাটক সৃষ্টি করতে পারা লোকেরা রাতারাতি নায়ক হয়ে ওঠে। এ যেন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতিক জঙ্গল, যেখানে গভীর বৃক্ষ বাঁচতে পারে না, কিন্তু আগাছা বিস্ময়কর দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রযুক্তি এই পরিবর্তনের একমাত্র কারণ নয়, কিন্তু এটি পরিবর্তনের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের মন এখন অ্যালগরিদমের হাতে বন্দি। আগে মানুষ বই খুলত; এখন স্ক্রিন খুলে। আগে মানুষ একটি বাক্যের ভেতরে ঢুকত; এখন একটি স্ক্রল থেকে আরেকটি স্ক্রলে চলে যায়। মনোযোগের স্থায়িত্ব এত কমে গেছে যে, মানুষ আর নীরবতার সঙ্গে বসে থাকতে পারে না। সে সবসময় উত্তেজনা চায়, শব্দ চায়, প্রতিক্রিয়া চায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন