হামে মৃত্যু: একটি কোল শূন্য হওয়া মানে একটি পৃথিবী নিভে যাওয়া

জাগো নিউজ ২৪ ইয়াহিয়া নয়ন প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১৪:১৮

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১টি শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ২৯ হাজার ৭৪৬ শিশু।


৯ মে শনিবার পর্যন্ত সরকারি হিসেবে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৫২ শিশু। অথচ এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব এমন একটি দুর্যোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একটি কার্যকর ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেললেও তা ঠিকভাবে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। গত দুই দশকে দেশে হাম টিকার আওতা ধীরে ধীরে বেড়েছিল এবং এটি স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক উদাহরণ ছিল। কিন্তু অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সেই সাফল্য আজ ম্লান হয়ে গেছে।


আমাদের দেশে নতুন সরকার এসে আগের ব্যবস্থার ওপর সন্দেহ করে এবং সেটি পরিবর্তন করতে গিয়ে পুরো কাঠামো ভেঙে ফেলে। ১৯৯৮ সাল থেকে চালু থাকা স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি মার্চ ২০২৫-এ কোনো সুস্পষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই বাতিল করা হয়। পরে যে অস্থায়ী প্রকল্প নেয়া হয়, সেটিও নভেম্বর ২০২৫-এর আগে অনুমোদন পায়নি। ফলে টিকা কেনা বন্ধ হয়ে যায়, ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের সরবরাহ কমে যায় এবং জরুরি মজুদও শেষ হয়ে যায়। ভেঙে পড়ে প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা।


আমরা জানতাম বাংলাদেশ ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করত কিন্তু কর্মকর্তারা হঠাৎ করে নিয়ম বদলে অর্ধেক টিকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও তাদের এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না এবং ইউনিসেফ এ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল। ফলাফল—নতুন কোনো পদ্ধতিতেই একটি টিকাও দেশে আসেনি।


জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এমন ভুলের সুযোগ নেই। একটি ভবনের প্রধান দেয়াল ভাঙার আগে যেমন বিকল্প কাঠামো নিশ্চিত করতে হয়, তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বন্ধ করার আগেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা জরুরি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে, জনবল কাঠামো বাতিল করেছে এবং অর্থায়নের প্রক্রিয়া আরো জটিল করে তুলেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই সংকটে পড়েছে। ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও