বিশ্ব শিশু শাস্তি বিলোপ দিবস: শারীরিক শাস্তির শিকার ৮৬ শতাংশ শিশু
১০ বছরের শিশু নাহিদ হাসান। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র সে। ২২ এপ্রিল মাদ্রাসায় পড়া ঠিকমতো বলতে না পারায় শিক্ষক তার ওপর চড়াও হন। হাতে থাকা বেত দিয়েই চলতে থাকে আঘাত। নাহিদের পিঠে, হাতে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে বেতের দাগ। ভয়ে, ব্যথায় নিশ্চুপ হয়ে যায় নাহিদ।
বিকেলে বাবা মিজানুর রহমান নাশতা নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে ছেলের শরীরে দগদগে ক্ষত দেখে আঁতকে ওঠেন। প্রশ্ন করতেই নাহিদ বলে, ‘পড়া দিতে পারিনি বলে হুজুর আমাকে অনেক মারধর করেছেন। হাতজোড় করেও রক্ষা পাইনি।’
নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক শাসন করবেন, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে, তা অমানবিক। চোরকেও এভাবে মারা হয় না।’
নাহিদের এই ঘটনা শুধু একটি শিশুকে দেওয়া শারীরিক শাস্তির গল্প নয়। এটি বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজে শিশুদের ওপর শৃঙ্খলার নামে সহিংসতা চাপিয়ে দেওয়ার একটা খণ্ডচিত্র।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু শারীরিক শাস্তির শিকার হয়ে থাকে। ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাস্তি নিষিদ্ধ করতে ২০১১ সালে একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারপরও শিশুরা শিক্ষকদের মারধর ও অপমানের শিকার হচ্ছে। বাড়ি, প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রেও শাস্তির নামে শিশুদের ওপর চলে সহিংসতা।
এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ৩০ এপ্রিল পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু শাস্তি বিলোপ দিবস। বাংলাদেশে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই দিবসটি পালন করে থাকে।