সভ্যতা ধ্বংসের ভয়ংকর বিপর্যয় থেকে বেঁচে গেল বিশ্ব

যুগান্তর মোবায়েদুর রহমান প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬

অবশেষে বিশ্ব হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। এক মস্তিষ্কবিকৃত বিকল মনের উন্মাদ প্রেসিডেন্টের সভ্যতা ধ্বংস করার আসন্ন বিপর্যয় থেকে পৃথিবী বাঁচল। সমগ্র বিষয়টি এমন অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে ঘটে গেল, যা কল্পনাকেও হার মানায়। আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন, আমেরিকার ৩৩ কোটি মানুষ কি বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বে ভুগছে? না হলে এমন মেন্টালি ডিরেঞ্জড ব্যক্তিকে তারা প্রেসিডেন্ট বানায় কীভাবে? মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন কম্পিউটারে দেখলাম, পরদিন অর্থাৎ বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ইরানে কেয়ামত নেমে আসবে, তখন সত্যি কথা বলতে কী, আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। এক মুহূর্তে সভ্যতা ধ্বংস হতে পারে কীভাবে? অসংখ্য জঙ্গিবিমান দিয়ে হামলা করে, অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে একটি দেশের ভাইটাল ইনস্টলেশনগুলো ধ্বংস করা যায়; কিন্তু তাই বলে সেগুলো করে সভ্যতা ধ্বংস করা যায় না। এ অবস্থায় কয়েকটি বিদেশি টিভি চ্যানেলের সংবাদের সূত্র ধরে বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক আশঙ্কা প্রকাশ করে অনলাইনে খবর দেয় যে, আমেরিকা সম্ভবত তাদের সময় রাত ৮টা এবং বাংলাদেশ সময় পরদিন সকাল ৬টায় ইরানে পারমাণবিক বোমা ফেলবে। যারা এ বিষয়টি নিয়ে একটু পড়াশোনা করেছেন, তারা জানেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থামানোর জন্য আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির ওপর আণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এ দুটি অ্যাটম বোমায় লাখ লাখ মানুষ নিহত হন, অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হন এবং অসংখ্য স্ট্রাকচার ধূলিসাৎ হয়। এ ছাড়া আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তায় আজও অনেকে সেখানে ভুগছেন। এখনকার যে কোনো দেশের যে কোনো অ্যাটম বোমা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা বোমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই ইরানে যদি দু-তিনটি বোমা ফেলা হয়, তাহলে সেই দেশটি বিরান হয়ে যাবে। সেই চিন্তা করেই রাতে আমার ঘুমটি শান্তিময় ছিল না।


পরদিন সকালে ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করি। দেখি, পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতি (সেনাপ্রধান কেন বললাম না, সেটা পরে বলছি) ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সারা রাত ধরে টেলিফোনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রটোকল মোতাবেক কথা বলেন আরেক প্রেসিডেন্ট। সেনাপ্রধান বা প্রধান সেনাপতি প্রটোকলে প্রেসিডেন্টের অনেক নিচে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স মানেননি। পাকিস্তানের জঙ্গিবিমান ভারতের রাফাল বিমানকে ভূপাতিত করার পর থেকেই অসিম মুনির ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখে একজন হিরো হয়ে যান। তিনি জেনারেল অসিম মুনিরকে দাওয়াত করেন। তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কথা বলার সময় নির্ধারিত ছিল এক ঘণ্টা; কিন্তু ট্রাম্প তাকে এতই পছন্দ করতে শুরু করেন যে, এক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। এর ফাঁকে তারা মধ্যাহ্নভোজ সারেন। তারপর আবার কথা বলেন। এভাবে দুই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। অতঃপর অসিম মুনির প্রেসিডেন্টের কক্ষ থেকে নিষ্ক্রান্ত হন।


এর মধ্যে জেনারেল অসিম মুনিরের প্রমোশন হয়। তিনি হন ফিল্ড মার্শাল এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর প্রধান সেনাপতি। অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী তার অধীনে চলে আসে। এজন্য পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি আইনও পাশ হয়। এরপর আবার দ্বিতীয় দফা ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে ডাকেন এবং লম্বা কথা বলেন।


২.


সবাই মনেপ্রাণে ফিল করছিলেন, ইরানে মার্কিন ও ইহুদি আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু বিড়ালের গলায় কেউ ঘণ্টা বাঁধতে উদ্যোগী ছিল না। এখনকার বিশ্বব্যবস্থায় প্রধান মোড়ল আমেরিকা। তারপর অর্থনৈতিকভাবে চীন। তারপর সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়া। কিন্তু এ দুটি দেশের কেউই ইরানের এ ভয়াবহ বিপদে কিছু গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের সাহায্য ছাড়া আর কোনো সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন না।


এমন পটভূমিতে ইরানের অভিন্ন প্রতিবেশী এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ পাকিস্তান এগিয়ে আসে। প্রথমে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে। কিন্তু সেই আলোচনা নিষ্ফল হওয়ায় ২৯ মার্চ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ চারটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন। সেই বৈঠকও ব্যর্থ হয়। তখন থেকে পর্দার অন্তরালে পাকিস্তান একাই আমেরিকা ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর জন্য দূতিয়ালি করেছে। অবশেষে ৭ এপ্রিল এ দূতিয়ালি সফল হয়।


একটু আগেই বলেছি, ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির সারা রাত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন। ম্যারাথন আলোচনা সন্তোষজনক হয় এবং ট্রাম্প নরম হন। তিনি এ ব্যাপারে ইরানের মতামত জানতে চান। তখন রাত সাড়ে ৪টায় ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অসিম মুনির নন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কথা বলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট কয়েক মিনিটের সময় চান। এ সময়ে তিনি ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির সঙ্গে কথা বলেন। মোজতবা খামেনি গ্রিন সিগন্যাল দিলে সেটি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে জানানো হয়। অতঃপর আমেরিকা ও ইরান ১৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও