কৃষিতে ডিজেল সংকটের প্রভাব, শঙ্কায় কৃষক

ঢাকা পোষ্ট সমীরণ বিশ্বাস প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৫

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের খবর যেমন বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও শক্তির বাজারকে প্রভাবিত করছে, তেমনি এর ছায়া সরাসরি পড়ছে আমাদের দেশের কৃষিক্ষেত্রেও। ডিজেল চালিত কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর, সেচপাম্প এবং কৃষি সামগ্রী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন সার ও কীটনাশক সরবরাহে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


এই সংকটে বিশেষত প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। তারা যেমন ইতিমধ্যেই সীমিত সম্পদ ও আয় নিয়ে সংগ্রাম করছেন, এবার ডিজেলের স্বল্পতা ও মূল্যবৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছেন।


বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার প্রায় অপরিহার্য। বিশেষ করে ট্রাক্টর, সেচপাম্প এবং ছোট-বড় কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোর ক্ষেত্রে ডিজেলের বিকল্প নেই। বর্তমানে ডিজেলের বাজার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকেরা তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। ফলে মাঠে যেমন সঠিক সময়ে বীজ বোনা বা সেচ কার্যক্রম করা যাচ্ছে না, তেমনি ফসলের উৎপাদনও প্রভাবিত হচ্ছে।


ডিজেল সংকটের প্রভাব কেবল যন্ত্রপাতিতে সীমাবদ্ধ নয়। সার, কৃষি রাসায়নিক ও অন্যান্য ইনপুট সামগ্রীর উৎপাদন ও সরবরাহেও তীব্র প্রভাব পড়ছে। কারণ সার উৎপাদন ও পরিবহন প্রক্রিয়ায়ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। যেকোনো প্রান্তিক কৃষক বা ক্ষুদ্র চাষি, যারা সার ও অন্যান্য জিনিসের সঠিক সময়ে কিনে মাঠে প্রয়োগ করে থাকেন, তাদের উৎপাদনশীলতা এই সংকটের কারণে হ্রাস পাচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সংকট দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি ডিজেলের অভাব ও সার সরবরাহের অসঙ্গতি অব্যাহত থাকে, তবে কৃষি উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে খাদ্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, গরিব ভোক্তাদের জন্য প্রাপ্যতা সীমিত হওয়া এবং দেশের মোট খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়া অনিবার্য।


কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেল সংকটের প্রভাবে প্রান্তিক কৃষকেরা দুই ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।


প্রথমত, উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ডিজেল ও সারসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।


দ্বিতীয়ত, উৎপাদন সময়সূচি বিঘ্নিত হচ্ছে। সঠিক সময়ে বীজ বোনা ও সেচ কার্যক্রম না হওয়ায় ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, যা সরাসরি কৃষকের আয়ে প্রভাব ফেলছে।


অতীতেও আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং তেলের সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যাঘাত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। অর্থাৎ এটি শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং সরবরাহ চেইনের সংকটও তৈরি করতে পারে।


এমন অবস্থায় নীতি নির্ধারকদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সচেতন হওয়া জরুরি। কয়েকটি নীতিগত ব্যবস্থা তাত্ক্ষণিকভাবে প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষা দিতে পারে।


প্রথমত, ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি ও স্থানীয় উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বায়োডিজেল, সোলার-চালিত সেচপাম্প বা LPG-চালিত যন্ত্রপাতি কৃষি কার্যক্রমে ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এটি শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা করবে না, বরং ভবিষ্যতে কৃষি জ্বালানির স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও