You have reached your daily news limit

Please log in to continue


জ্বালানি-আতঙ্ক, সামাজিক ভাঙন এবং সভ্যতার ভঙ্গুরতা

প্রতিটি গভীর সামাজিক ও জাতীয় সংকটে এমন একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত আসে যখন সমস্ত বাহ্যিক মুখোশ খসে পড়ে—যখন সভ্য আচরণের সেই পরিশীলিত ও কৃত্রিম প্রদর্শনী, যা আমাদের প্রাত্যহিক দৈনন্দিন জীবনকে ধরে রাখে, তা হঠাৎ করেই অত্যন্ত হিংস্রভাবে স্থগিত হয়ে যায়। বাংলাদেশ এখন ঠিক তেমনই একটি মারাত্মক মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, এবং অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এটি ঘটছে কোনো দেশের নীতি-নির্ধারণী সংসদ বা উচ্চ আদালতে নয়, বরং একটি সাধারণ জ্বালানি পাম্পের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্ন দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে এমন এক বীভৎস রূপ নিয়েছে যা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কোনো রুটিন প্রেস ব্রিফিংয়ে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এটি আসলে জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত একটি নির্মম সমাজতাত্ত্বিক পরীক্ষা, যেখানে আমাদের তথাকথিত সামাজিক সংহতির দুর্বলতা পরিমাপ করা হচ্ছে প্রতি লিটার ডিজেলের লাইনে।

বাংলাদেশে, অসাধু ও অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো গভীর রাতে জ্বালানি চুরি করছে এবং মজুত করার অসৎ উদ্দেশ্যে সাধারণ পরিবহন যানবাহনে অকস্মাৎ হানা দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, জ্বালানি চুরিতে বাধা দেওয়ায় বা সরবরাহের অভাবে সৃষ্ট ক্ষোভ-তাড়িত হামলায় দেশের নিরীহ গ্যাস পাম্পের কর্মীরা নিহত হয়েছেন। এগুলো কেবল মানুষের পেটের ক্ষুধা বা হতাশার কারণে সৃষ্ট কোনো এলোমেলো অপরাধমূলক ঘটনা নয়। এগুলো হলো তীব্র নৈরাজ্যিক চাপের অধীনে থাকা একটি ক্ষুব্ধ সমাজের সম্পূর্ণ পূর্বাভাসযোগ্য ব্যাকরণ। এই অস্থিরতাগুলো কী প্রকাশ করে তা যদি আমাদের গভীরভাবে বুঝতে হয়, তবে শুধু সরবরাহ-শৃঙ্খল বা রসদবিদ্যার হিসাব দিয়ে হবে না, এর পরিবর্তে আমাদের বিশুদ্ধ সমাজতত্ত্বের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিখ্যাত ফরাসি সমাজতত্ত্ববিদ এমিল ডুর্খাইম (Émile Durkheim), যিনি আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমাজতাত্ত্বিক ধারণা 'অ্যানোমি' (Anomie) উপহার দিয়েছেন, তিনি একে এমন একটি সামাজিক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা তখন উদ্ভূত হয় যখন মানুষের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী আদর্শিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। যখন সেই অলিখিত সামাজিক নিয়মগুলো, যা মানুষকে স্বাভাবিক সামাজিক জীবন পরিচালনা করতে এবং একে অপরের কাছ থেকে ঠিক কী প্রত্যাশা করতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেয়, তখন তারা তাদের নৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলে। অ্যানোমির জন্য একটি সমাজের রাতারাতি সম্পূর্ণ পতনের প্রয়োজন হয় না। এর জন্য কেবল মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের পূর্বাভাসযোগ্যতার বোধকে সজোরে নাড়া দেওয়ার মতো যথেষ্ট বড় একটি ফাটল বা অনিশ্চয়তাই যথেষ্ট।

যখন সেই পূর্বাভাসযোগ্যতা পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়—যখন একজন সাধারণ গাড়িচালক আর নির্ভরযোগ্যভাবে ধরে নিতে পারেন না যে রাস্তার মোড়ের পাম্পে গেলেই জ্বালানি থাকবে, যে লাইনটি সভ্যতার ন্যায্য নিয়ম মেনে চলবে, কিংবা যে তার সামনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকটি নিজের প্রয়োজনের চেয়ে দশগুণ বেশি তেল কিনে কৃত্রিম মজুত করার পরিকল্পনা করছে না—তখন সেই তেল পাম্পকে ঘিরে থাকা আবহমান সামাজিক চুক্তিটি কার্যকরভাবে বিলীন হয়ে যায়। এর পরিবর্তে সভ্যতার মোড়কে যা বেরিয়ে আসে তা কোনো বিমূর্ত বিশৃঙ্খলা নয়। এটি একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং শনাক্তযোগ্য সামাজিক ব্যাধি: ভয়ের দ্বারা ত্বরান্বিত ‘প্রত্যেকে নিজের জন্য’ বাঁচার এই আদিম ও হিংস্র যুক্তি।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হকের মতে, উদ্বিগ্ন ও ভীত গাড়িচালকরা পাম্পগুলোতে কয়েক মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছেন। তারা স্বাভাবিক প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত বেশি করে জ্বালানি সংগ্রহ ও মজুত করার কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টেশনগুলোতে তেলের মজুদ শূন্য হয়ে যাচ্ছে, যা মানুষের মনে আরও তীব্রতর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রির জন্য জ্বালানি মজুতকারী অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। দেশের প্রায় ৩,০০০ পেট্রোল স্টেশনে প্রতিদিন ছোট-বড় হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন