পথে পথে মৃত্যুফাঁদ, উৎসবেও প্রকট শ্রেণি বৈষম্য

জাগো নিউজ ২৪ মাহফুজা অনন্যা প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৪

ঈদ—যে শব্দটি আমাদের চেতনায় আনন্দ, মিলন, আর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আসে, সেই ঈদই আজ অনেক পরিবারের কাছে হয়ে উঠছে গভীর শোকের নাম। নতুন জামার গন্ধ, সেমাইয়ের মিষ্টি স্বাদ, প্রিয়জনের সাথে আলিঙ্গনের উষ্ণতা—সবকিছু যেন এক মুহূর্তে মুছে যায়, যখন পথে ঘটে যায় একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা।


ঈদের সময় দেশে নানা ধরনের দুর্ঘটনার খবর আমরা প্রায়ই শুনি—সড়কপথে একের পর এক বাস দুর্ঘটনা, রেলপথে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া কিংবা সংঘর্ষ। এসব ঘটনা নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক, প্রতিটিই আমাদের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যে দুর্ঘটনাটি মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তা হলো ফেরি থেকে বাস নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনা।


দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একটি বাস, যেটি মানুষকে তাদের প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে। ফেরি থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে বাসটি নিমিষেই ডুবে যায়। অসংখ্য যাত্রী—শিশু, নারী, পুরুষ—গভীর পানির নিচে আটকে পড়ে নিঃশ্বাসের জন্য আকুল হয়ে ওঠে। তাদের শেষ মুহূর্তগুলো কেমন ছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন।


এই দুর্ঘটনা শুধু কিছু প্রাণ কেড়ে নেয়নি; এটি কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য স্বপ্ন, অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ। কোনো শিশুর জন্য তার বাবার আর ফেরা হবে না, কোনো মায়ের কোলে তার সন্তানের উষ্ণতা আর ফিরে আসবে না। যে মানুষগুলো ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বেরিয়েছিল, তারা আর ফিরে আসেনি—ফিরেছে শুধু নিথর দেহ, আর অশেষ কান্না।


প্রশ্ন হলো—এ ধরনের দুর্ঘটনা কি অবশ্যম্ভাবী? নাকি এটি আমাদের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ফল? প্রতি বছর ঈদ এলেই আমরা একই চিত্র দেখি—অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানবাহনের অযোগ্যতা, চালকের ক্লান্তি,  হেলপার দিয়ে বাস চালানো, পেট্রোল নেওয়া বা ফেরিতে গাড়ী তোলার সময় যাত্রীকে না নামানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা। ফেরিঘাটগুলোতে নেই পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা, নেই সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেন মানুষের জীবনের কোনো মূল্যই নেই এই বিশৃঙ্খলার মাঝে।


দৌলতদিয়ার এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় কত বড় ধরনের ঝুঁকি লুকিয়ে আছে। একটি ছোট ভুল, একটি সামান্য অসতর্কতা, কিংবা কিছু অব্যবস্থাপনা মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে শতাধিক প্রাণ। অথচ এই ভুলগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল—যদি থাকতো কঠোর তদারকি, সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও