জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন হোক সংসদ

জাগো নিউজ ২৪ মোস্তফা হোসেইন প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২০

জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সদস্যবৃন্দ জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তারা নিয়োজিত হবেন। তারা শপথ নিয়েছেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংরক্ষণ ও লালন করবেন বলে। বাংলাদেশের প্রতি অবিচল আস্থার বিষয়টিও তাদের শপথেই স্পষ্ট উল্লেখ আছে। কিন্তু ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আচরণে সংসদের বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংগীত অবমাননার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের পরিপন্থি কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হয়তো সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল আরও আলোচনা করবেন। কিন্তু এটাও অনুমান করা যায়,তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের পক্ষে যতই তারা যুক্তি উপস্থাপন করুন না কেন বাইরের সমালোচনাকে থামিয়ে রাখতে পারবেন না।


প্রথম দিনই জামায়াতে ইসলামীর সদস্যগণ ওয়াক আউট করেছেন। মাননীয় স্পিকার এই ওয়াকআউটকে বিরোধী দলের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন, তারা ওয়াক আউট না করলেই ভালো করতেন। বাইরে এ নিয়ে ভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধী দলের প্রথম দিনের বিরোধিতাকে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধিতা হিসেবে এক্টিভিস্টরা দেখছেন না। হয়তো রাজনৈতিক মঞ্চেও এমনই মন্তব্য উচ্চারিত হচ্ছে এবং হবেও। শুক্রবার রাতে ইউটিউবে দেখলাম বিএনপির সিনিয়র নেতা সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান হাবিব এই ঘটনাকে সভ্যতা বর্জিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পষ্টত বিরোধী দলের প্রতি অভিযোগ আনা হচ্ছে-তারা জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করেছেন। যা বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এবং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ ভঙ্গেরও কারণ।


এমনও বলা হচ্ছে গতবছর অধ্যাপক গোলাম আযমের সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমি (অব.) জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের যে প্রস্তাব করে জাতীয় সংগীতকে অমান্য করেছিলেন, ত্রয়োদশ সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির এমপিগণ কি তাই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন কি না।


বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান ওয়াক আউটের কারণ বর্ণনা করেছেন সাংবাদিকদের সামনে। এ নিয়েও বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ হচ্ছে। সংসদে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় সদস্যদের বসে থেকে জাতীয় সংগীতকে অবমাননার বিষয়টি বিরোধী দলীয় নেতা এড়িয়ে গেছেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পর একজন এনসিপি নেতা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এই ব্যাখ্যাটিকেও মানুষ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজার বিষয়টি এমপিগণ বুঝতে পারেননি বলে তারা আসনে বসে ছিলেন।


যে কেউ জানে, রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। সংসদেও যখনই রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হন তখনই জাতীয় সংগীত বাজানো হয়ে থাকে এটা রীতি এবং সবসময়ই হয়ে আসছে। শুধু তাই নয় জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের সদস্যগণ দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিলেন, এটাও তাদের না দেখার কথা নয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির পর জাতীয় সংগীত হবে এটা তারা জানতেন অবশ্যই এবং সরকারি এমপিগণ সম্মান জানাচ্ছেন তারা সেটি দেখেছেনও। তাই তারা জেনেই জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করেছেন। এই অভিযোগও এন্তার দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও