নির্বাচন, অতঃপর…

জাগো নিউজ ২৪ চিররঞ্জন সরকার প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪০

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার উপলক্ষ। জনমনে আজ এক প্রবল প্রত্যাশা—একটি সার্বভৌম ও নির্বাচিত সরকার গঠিত হবে, যারা সরাসরি জনগণের কাছে তাদের প্রতিটি কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।


দীর্ঘদিন ধরে দেশ পরিচালিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অধীনে। এই দীর্ঘ সময়কালে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল। অনেকের মতেই, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সব সময় যথাযথভাবে ঘটেনি। তাই আজকের এই দিনটিকে নাগরিক সমাজ দেখছে অনির্বাচিত শাসনব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত শাসনে উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে।


নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তার প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে কিছু মৌলিক বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে:


ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ: ভয়ভীতিহীন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা।


ভোটদানের স্বাধীনতা: প্রতিটি নাগরিকের নিজের পছন্দমতো প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।


স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা: নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন।
ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের এই আনন্দ-উচ্ছ্বাস বজায় থাকে এবং ভোটাধিকারের পূর্ণ স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে, তবেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও জনআকাঙ্ক্ষা সার্থকতা খুঁজে পাবে।


তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, এবারের নির্বাচন পুরোপুরি সবার অংশগ্রহণে হচ্ছে না। দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে রয়েছে। ফলে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলো কি না—এই প্রশ্ন উঠছে। এর আগে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অভিযোগ ছিল ক্ষমতাসীনরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাইরে রাখে, এখন অভিযোগ উল্টো দিক থেকে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের লাভ কী হলো—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো—সব বড় রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদের মধ্যে থেকে মানুষ বেছে নেবে নিজের পছন্দের প্রার্থী। যখন বড় কোনো পক্ষ বাইরে থাকে, তখন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা হয়।


নির্বাচনের ফলাফল কে জিতবে—এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে। কারণ নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের উপায় নয়; এটি জনগণের মত প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তাই নির্বাচনকে বিচার করতে হলে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তব অবস্থা দিয়ে দেখতে হবে। আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, দলের শক্তি, মাঠপর্যায়ের সংগঠন, প্রার্থী নির্বাচন, জোট করা এবং ভোটারের উপস্থিতি—এই পাঁচটি বিষয় ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। এবারের নির্বাচনেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু নতুন বাস্তবতা যুক্ত হয়েছে।


বিএনপি একটি বড় ও পুরোনো দল হিসেবে তাদের সংগঠন, প্রতীক ও সমর্থন নিয়ে মাঠে আছে। জামায়াতে ইসলামীরও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় প্রভাব রয়েছে। কিন্তু শুধু দুই দলের লড়াই হিসেবে এই নির্বাচনকে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। অনেক আসনে স্থানীয় প্রার্থী, বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ছোট দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ভোটার এখন দল নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেন—কে এলাকায় কাজ করেছে, কাকে কাছে পাওয়া যায়—এসব বিবেচনা করছেন। ফলে অনেক আসনে লড়াইয়ের চিত্র ভিন্ন ভিন্ন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও