প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সংস্কার কেন জরুরি, অর্থায়ন হবে কীভাবে?

ঢাকা পোষ্ট ড. শাফিউন নাহিন শিমুল প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২২

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আজ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কয়েক দশকের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য দুর্বলতা দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো অতিমাত্রায় ব্যক্তিখাতের ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, হাসপাতালকেন্দ্রিক এবং খণ্ডিত। অসংক্রামক রোগের (NCD) দ্রুত বৃদ্ধি, জনসংখ্যায় প্রবীণদের অনুপাত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।


এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি সত্যিই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (Universal Health Coverage) অর্জন করতে চায়, তবে স্বাস্থ্য সংস্কারের কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (Primary Healthcare—PHC) কে আনতে হবে। তবে সেটা শুধু কেবল নীতিগতভাবে নয়, অর্থায়নের ক্ষেত্রেও করতে হবে।


কেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেবল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রথম স্তর নয়; এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আছে, তারা কম খরচে ভালো, কার্যকর সেবা দিতে পারে এবং তারা স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে দরিদ্র হওয়ার প্রবণতাও কমাতে পারে।


বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই যুক্তি আরও জোরালো। দেশের অধিকাংশ স্বাস্থ্য সমস্যা, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, শিশু রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ইত্যাদির জন্য বেশিরভাগ সময় বড় হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এগুলোর জন্য দরকার নিয়মিত, প্রতিরোধমূলক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা। অথচ সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ এখনো টার্শিয়ারি হাসপাতাল ও অবকাঠামোতে ব্যয় হয়, যা কেবল সীমিতসংখ্যক মানুষকে সেবা দেয়।


ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে দুর্বল প্রাথমিক কাঠামো এড়িয়ে সরাসরি বেসরকারি খাতে যায়। এর ফল হলো উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়, অনিয়ন্ত্রিত সেবা এবং ব্যাপক নিজের পকেট থেকে খরচ (Out of pocket expenses)। বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসে জনগণের পকেট থেকে। প্রতিবছর লাখো পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে দারিদ্র্যে নেমে যায়। এই বাস্তবতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ মানে শুধু স্বাস্থ্য উন্নয়ন নয়, দারিদ্র্য প্রতিরোধের কৌশলও।


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেওয়া মানে হাসপাতালকে অবহেলা করা নয়। বরং এর অর্থ হলো হাসপাতালকে রেফারাল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং অধিকাংশ স্বাস্থ্য চাহিদা আগেই, কম খরচে সমাধান করা। ফলে হাসপাতালগুলো আরও সেবার মান বাড়াতে পারবে।


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়, একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রায়ই সামাজিক ব্যয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি হাই ইমপ্যাক্ট বিনিয়োগ। প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা ভবিষ্যতের ব্যয় কমায়, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়।


বাংলাদেশে এখন মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অসংক্রামক রোগজনিত। অথচ এসব রোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত। উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ নিয়মিত ফলোআপ ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর তার জন্য হাসপাতাল নয়, ভালো মানের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা বেশি। সময় থাকতে এই খাতে বিনিয়োগ না করলে সামনে চাপ সামলানো জটিল থেকে জটিলতর হবে বলা বাহুল্য।


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কী ধরনের সংস্কার ও উদ্ভাবন দরকার


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর করতে হলে শুধু বিদ্যমান কাঠামো সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। সেবা প্রদান পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও প্রশাসনে পরিবর্তন আনা জরুরি।


প্রথমত, সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য প্রাথমিক সেবাকেন্দ্রে কেবল মা ও শিশুসেবা নয় বরং অসংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং, মানসিক স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরী ও প্রবীণ সেবাও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সব-বয়সীদের সেবা (লাইফ-সাইকেল এপ্রোচ) প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভাবতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও