সুষ্ঠু নির্বাচন যেসব প্যারামিটারের ওপর নির্ভর করে

ঢাকা পোষ্ট ড. সুলতান মাহমুদ রানা প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৭

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়। নির্বাচন রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মানে শুধু ভোটের দিন শান্তি বজায় রাখা নয়, বরং দীর্ঘ সময়জুড়ে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে জনগণ নিশ্চিত থাকে যে, তাদের মতামত কোনোভাবে বিকৃত হবে না।


উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এই কারণেই নির্বাচনকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে—যার প্রতিটি ধাপে সুনির্দিষ্ট প্যারামিটার কার্যকর থাকে।


রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক আলোচনায় নির্বাচনকে বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দিয়েছেন জোসেফ শুম্পেটার (Joseph Schumpeter)। তিনি গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এমন একটি ব্যবস্থা হিসেবে, যেখানে জনগণ প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক বাছাই করে। এই তত্ত্ব বাস্তবে কার্যকর হতে হলে প্রতিযোগিতার পরিবেশটি হতে হয় বাস্তব ও অর্থবহ।


যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল উভয়েই প্রচারণার ক্ষেত্রে একই নির্বাচনী আইন ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকে। সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় কাউন্সিলর—সবাই যথাযথ নির্বাচনী আচরণবিধির অধীন। এর ফলে নির্বাচন একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। আর যেখানে প্রতিহিংসার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা একটি আদর্শ রূপে পরিণত হয়।


রবার্ট ডালের (Robert A. Dahl) পলিআর্কি (Polyarchy) তত্ত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণাকে আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে। ডাল দেখিয়েছেন, কেবল ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেই গণতন্ত্র সম্পূর্ণ হয় না; বরং নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সমতার পরিবেশ অপরিহার্য প্যারামিটার।


এই দৃষ্টিকোণ থেকে সুইডেনের নির্বাচনব্যবস্থা একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং নির্বাচনী সংবাদে পক্ষপাত এড়াতে শক্তিশালী মিডিয়া এথিকস কার্যকর থাকে। ফলে ভোটাররা শুধু আবেগ নয়, বরং নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।


এই প্যারামিটারে সাধারণভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সংবিধানে সুরক্ষিত এবং এই স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য, কর্মসূচি, নীতি নিয়ে সমানভাবে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।


সুইডেনে স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান—যেমন SVT (Sveriges Television) ও SR (Sveriges Radio)- আইনগতভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়াতে বাধ্য এবং সব প্রধান রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বরের জন্য সমান সুযোগ রাখে। এই কাঠামোর কারণে ভোটাররা বিভিন্ন দলের নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব তথ্য নিয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পায়, শুধু আবেগ বা গুজবে নয়।


সুইডেনে ২০২২ সালের নির্বাচন থেকে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর পলিসি, বিশেষত স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিং এবং রাজনৈতিক প্রচারণার পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকরা বিরোধী পক্ষসহ সব দলের বক্তব্য সমানভাবে তুলে ধরে বিশ্লেষণ করেছে। এই পরিবেশই ভোটারদের আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে, যা ডালের পলিআর্কি তত্ত্বের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষমতার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়।


নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার গুরুত্বের কথা বলেছেন স্যামুয়েল হান্টিংটন (Samuel P. Huntington)। তার মতে, গণতন্ত্রের টিকে থাকার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অপরিহার্য। উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এই নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বা সমমানের সংস্থার মাধ্যমে।


কানাডার নির্বাচনব্যবস্থা একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ হলেও সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকলেও নির্বাহী বিভাগের পক্ষে ইচ্ছামতো হস্তক্ষেপ করার পথ কার্যত বন্ধ।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও