নারীর উন্নয়নে সবার আগে দরকার নিরাপত্তা কার্ড

প্রথম আলো নিশাত সুলতানা প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ২১:২৪

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রথম যে অঙ্গীকারটি করেছিল তা হলো, দেশের ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অসচ্ছল ও প্রান্তিক পরিবারের নারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করার কথাও ইশতেহারে বলা হয়েছে।


সরকার গঠনের ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার উদাহরণ খুব একটা নতুন নয় আমাদের কাছে। তাই নবগঠিত সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণের এই সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর এই উদ্যোগ সত্যিই নারীর ক্ষমতায়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে তো? নাকি এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে নারীকে আরও বেশি প্রান্তিক ও পরনির্ভরশীল করে তুলবে এবং বৃদ্ধি করবে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন?


প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের স্কুল পর্যায় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করার ব্যবস্থা করেছেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজ আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই।’


আমরা জানি শিক্ষার সঙ্গে মানুষের স্বনির্ভরতা ও সক্ষমতা অর্জনের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নারীশিক্ষার ব্যাপক প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা আমাদের জানা। তিনি নব্বইয়ের দশকে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। শুধু তাই নয়, নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তিনি মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু করেন।


নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া উদ্যোগগুলো পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকে। ফলে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বেড়েছে নারীর অংশগ্রহণ। শুধু তাই নয়, ফলাফলের মানদণ্ডেও পুরুষদের পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন নারী। প্রশ্ন হলো শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও কেন নারীরা আজও স্বনির্ভরতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারল না? নারীশিক্ষায় এত বিনিয়োগের পরও কেন আজ সরকারকে নারীর ক্ষমতায়নের উপায় হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রচলন করতে হচ্ছে?


এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা কঠিন নয়। শিক্ষার সুফল কখনোই পাওয়া যাবে না যদি রাষ্ট্র নারীকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নিরাপত্তার অভাব। গণপরিবহনে, খোলা রাস্তায়, মাঠে ময়দানে, অলিতে-গলিতে, স্কুল-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ে, কর্মস্থলে, হাসপাতালে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, গণমাধ্যমে, এমনকি লাশঘরে পর্যন্ত নিরাপত্তা নেই নারীর। এ ছাড়া পারিবারিক নির্যাতন তো আছেই।


বাল্যবিবাহ আজও এ দেশের প্রধানতম সামাজিক সমস্যা। বাংলাদেশে প্রতি দুজন নারীর মধ্যে একজনের বিয়ে হয়ে যায় আঠারো বছর পূর্ণ করার আগেই। অথচ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো প্রতিশ্রুতি চোখে পড়েনি। ৭০ শতাংশ নারী এ দেশে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়। বাংলাদেশ যেন নারী ও শিশু ধর্ষণের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে নারীর প্রতি মোরাল পুলিশিং বা নৈতিক পুলিশিংয়ের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে গত এক বছরে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি।


ইউএনএফপিএর প্রতিবেদন বলছে, শুধু এক বছরেই বাংলাদেশের প্রায় ৩৩ লাখ নারী প্রযুক্তির মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরও নারীর প্রতি নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের ঘটনা কিছুমাত্র কমেনি। নারীর প্রতি সহিংসতার চূড়ান্ত এই দেশে কীভাবে নারী উন্নয়নের মূল স্রোতোধারায় শামিল হবে?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও