নারীর ক্ষমতায়ন কেন উপেক্ষিত

www.ajkerpatrika.com শেখ রফিক প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩১টিরই কোনো নারী প্রার্থী নেই। ২০টি দলের নারী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী মিলে মাত্র ৭৬ জন। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ১০টি দল নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। এই একটি সংবাদেই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, সমতা ও মুক্তির বাস্তবতা কতটুকু, তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, নারীবাদী ও সচেতন রাজনৈতিক মহল শঙ্কিত ও কিছুটা আতঙ্কিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো তাদের এই ব্যর্থতার জন্য সামান্য লজ্জিত!


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনের মধ্যে একটিতেও নারী প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের দুটি অংশ, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই। অন্যদিকে বিএনপি ১০ জন, এনসিপি ২ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, গণঅধিকার পরিষদ ৩ জন, গণসংহতি ৪ জন, কমিউনিস্ট পার্টি ১ জন, বাসদ ৫ জন, বাসদ-মার্ক্সবাদী ১০ জন, জেএসডির ৬ জন, নাগরিক ঐক্য ১ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২ জনসহ আরও কিছু পার্টির নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিমোন দ্য বোভোয়ার তাঁর বিখ্যাত বই ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’-এ বলেন, ‘নারী জন্মগতভাবে নারী নয়, তাকে নারী বানায় সমাজ।’ এর অর্থ হলো, নারী হয়ে ওঠা কোনো স্বাভাবিক বা জন্মগত বিষয় নয়, বরং সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবার, ধর্ম ও ইতিহাসই নারীর আচরণ, মর্যাদা, দায়িত্ব এবং সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে দেয়। তাঁর মতে, নারীর প্রতি বঞ্চনা ও শাসনের যে কাঠামো, তা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই সৃষ্টি, যা নারীর স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়কে সংকুচিত করে রাখে। এই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ভেঙে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই মানবতার পূর্ণতা নিশ্চিত করে।

এই দুরবস্থার মধ্যেও বরিশালের মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা-৯ আসনের তাসনিম জারা, একজন হিজড়া প্রার্থী, বাম জোটের ১৬ জন নারী প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র ১৫ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে মানুষের মধ্যে একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন। বিএনপির দলীয় নারী প্রার্থীদের বাইরে তাঁরা হয়তো নির্বাচনে জয়ী হবেন না, তবু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থার শৃঙ্খল থেকে নারীর অধিকার, মর্যাদা, ক্ষমতায়ন ও মুক্তির জন্য তাঁদের লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।


ভাষা আন্দোলন থেকে সবশেষ চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা অনন্য ছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে, মানবসমাজে নারীর মর্যাদা, সমতা, ক্ষমতায়ন ও মুক্তি ছাড়া কোনো সংগ্রাম, অর্জন বা স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও