নারীকে মানুষ হিসেবে ভাবুন, বস্তু হিসেবে নয়

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫

দেশের বড় বড় সমস্যা ও নির্বাচন নিয়ে আমরা যখন ব্যস্ত, সেই ফাঁকে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। গত ১৬ মাসে ৯ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই হিসাব ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।


এটা শুধু মামলার সংখ্যা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে, ধর্ষকের দাপটে, রাজনৈতিক কারণে, এক ঘরে হওয়ার ভয়ে এবং সর্বোপরি বিচার পাবেন না মনে করে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে চান না বা করেন না।


চলন্ত বাস, ট্রেন, মার্কেট, ঘরে ঢুকে, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। এমনকি মর্গেও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে নারীর মরদেহ। এটা খুব বীভৎস ঘটনা কিন্তু অসত্য নয়।


ধর্ষণ বেশি হয় সেই সমাজে যেখানে আইন দুর্বল, নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতা কম, সহিংসতাকে স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়, পুরুষত্বকে বিকৃতভাবে শেখানো হয় এবং সমাজ যেখানে নীরব ভূমিকা পালন করে। এটা কোনো এক শ্রেণির “খারাপ মানুষ”-এর নিজস্ব সমস্যা নয়, এটা সমাজের মানসিক কাঠামোর ব্যর্থতা।


ধর্ষণের শিকার একজন নারী একবার বলেছিলেন, এলাকার লোকজন এমনভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকে, মনে হয় তারা চোখ দিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করছে। পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা নানাধরণের অবান্তর প্রশ্ন করে। এমনকি পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে কোন কোন নারী জানতে চেয়েছেন ”ধর্ষণের সময় মেয়েটির অনুভূতি কেমন হয়েছিল?” কী ভয়াবহ অসুস্থ মানসিকতা আমাদের। সবাইকে মানতে হবে ’ধর্ষণ’ একটি ভয়াবহ অপরাধ। ধর্ষণের বিচার না পাওয়া এবং ইনিয়ে-বিনিয়ে ধর্ষণকে জায়েজ করাটা আরও বড় অপরাধ। দুটি অপরাধই সমাজে দ্রুত বাড়ছে।


শিশু ও কিশোরীরা ধর্ষণের শিকার বেশি হচ্ছে, প্রাপ্তবয়সী নারীর তুলনায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ৭৪৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪০১। ৭৪৯ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ৩৭০ জনই ছিলেন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী।


ধর্ষণের পাশাপাশি বেড়েছে গণধর্ষণ। ৭৪৯ জনের মধ্যে ১৮০ জনকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। গণধর্ষণের শিকার হওয়াদের তালিকায় ছয় বছরের শিশু আছে ৩ জন, বারো বছরের কমবয়সী ৯ জন। আঠারো বছরের নীচে শিশু আছে ৩৫ জন। ৩৬ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।


মনোবিজ্ঞান ’গণধর্ষণ’ কে কোনো একক ব্যক্তির “যৌন লালসা” হিসেবে দেখে না। একে ব্যাখ্যা করা হয় দলগত বিকৃতি, ক্ষমতার মানসিকতা, নৈতিক ভাঙন হিসেবে। গণধর্ষণ করার সময় মানুষের দায়বোধ কমে যায়, তার বিবেক দুর্বল হয়। অপরাধী ভাবে আমি একা না, সবাই করছে, এতে নৈতিক বাধা ভেঙে পড়ে। গণধর্ষণ মূলত ‘যৌনতা’র চেয়ে’বেশি ক্ষমতা দেখানো’র মানসিকতা। অপরাধীর কাছে গণধর্ষণের শিকার নারী “ভোগ” নয়, “দখল” হিসেবে বিবেচিত হয়।


গত ২/৩ বছর যাবৎ নারীবিদ্বেষী প্রচারণা বাড়ছেই। কারণে-অকারণে, যেখানে-সেখানে সুযোগ পেলেই নারীর প্রতি বিষোদগার করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার এর বিরুদ্ধে দৃঢ় কোন অবস্থান নেয় না। যদিও বলা হয় নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতি ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ মানা হবে কিন্তু আদতে তা হয় না। কর্তৃপক্ষ মনে করে নারীর প্রতি সহিংসতা হচ্ছে দ্বিতীয় সারির অপরাধ। ফলে চলছে নারী বিদ্বেষ, পাশাপাশি নারীকে পদদলিত করার জন্য বাড়ছে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা ও ধর্ষণ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও