‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার: গণভোটে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে কি?

বিডি নিউজ ২৪ আমীন আল রশীদ প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফটোকার্ড প্রকাশ করতে শুরু করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ফটোকার্ডে গণভোটের ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মোট আটটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হবে বলে শুনলাম।


সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আলোচনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন চালাতে বলা হয়েছে। পোশাক কারখানার সামনে ঝোলাতে বলা হয়েছে ব্যানার। এছাড়া গণভোটের পক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।


সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। কিন্ত বাস্তবতা হলো, সরকার গণভোটে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে—যা স্পষ্টত সরকারের পক্ষপাত প্রকাশ করছে। একটি ব্যালটে দুটি অপশন বা প্রতীক (‘হ্যাঁ’ ও ‘না’) থাকবে, তার মধ্য থেকে জনগণ কোনটি বেছে নেবে বা কে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে আর কে ‘না’ ভোট দেবে—সেই অধিকার ব্যক্তির। সরকার এখানে কোনো একটি প্রতীক বা বিকল্পে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচার চালাতে পারে না। কারণ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে ভোটের আয়োজন করা। কে কোন মার্কায় ভোট দেবে, সেটি তার পছন্দ। সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নয় যে, একটি নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবে। এখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটকে মার্কা বলে ধরে নিয়ে সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবার কথা। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো বিকল্পে তার অবস্থান স্পষ্ট করা নীতিগতভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।


শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে দেশের সব ব্যাংক। ‘হ্যাঁ’ ভোটের এই প্রচারণায় ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে টাকা খরচ করা হবে। কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) গণভোট ইস্যুতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য সহায়তা চাইলে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে–এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।


তার মানে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। ফলে প্রশ্ন উঠতে পারে, সরকার যদি ভোটের ফলাফল ঠিক করেই রাখে বা কোন ফলাফলটি সে চায়, সেটি যদি নির্ধারিতই থাকে, তাহলে আর ভোটের কী প্রয়োজন?


তর্কের খাতিরে হয়তো এটা বলা হবে যে, এই সরকার বিগত দিনের তত্ত্বাবধায়ক বা নির্বাচিত সরকারের মতো নয়। অভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ ধরনের সরকার। দ্বিতীয়ত, এই সরকার যেহেতু জুলাই সনদ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে এবং জুলাই সনদ অনুমোদনের পক্ষে—ফলে জুলাই সনদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত পাওয়ার জন্য সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এই যুক্তিটিও কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটি তর্কসাপেক্ষ।


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলছেন, ‘আইনি বাধা না থাকায় গণভোটের প্রচারণা চালাবে সরকার।’ এখানে আইনি বাধার চেয়ে বড় প্রশ্ন নৈতিকতার এবং সরকারের নিরপেক্ষতার। কেননা ভোট মানেই হলো তার ফলাফল নির্ধারিত নয় এবং ভোটের আয়োজক রেফারির ভূমিকায় থাকবেন। তিনি খেলার নিয়ম বলে দেবেন। কিন্তু কোনো দলকে গোল করতে সহযোগিতা করবেন না। সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মানে ‘না’ ভোটের বিপক্ষে। সুতরাং সরকারের আহ্বান উপেক্ষা করে যারা গণভোটে ‘না’ ভোট দেবে, তারা কি সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন? তাছাড়া সরকার যখন কোনো একটি বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে, তখন মাঠ প্রশাসনের পক্ষে সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রশ্ন হলো, মাঠ প্রশাসনের ওপর যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার চাপ থাকে, তাহলে সেই ভোট কি নিরপেক্ষ হবে?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও